দুপুর না গড়াতেই
হঠাত্ বসে পড়লাম পুরনো ইজেলটার সামনে।
মাঝখানে আনকোরা নতুন অয়েল ক্যানভাস,
চোখজোড়া সে জায়গাটাতেই সীমাবদ্ধ, তবে দৃষ্টিশূন্য।
একহাতে জ্বলন্ত সিগারেট, অন্য হাতের কনিষ্ঠ আর বুড়ো আঙুলের মাঝে
দৃঢ়ভাবে ঝুলে আছে প্রিয় টার্পেন্টাইন ব্রাশ; দেখে মনে হবে
ভাবলেশহীন বসে আছি, আসলে আমি ভাবছি...গভীরভাবে ভাবছি।
খুবই সাধারণ কিন্তু
ব্যাখ্যাতীত একটা ব্যাপার লুকিয়ে আছে
এখানে—আগেই বলেছি আমার চোখজোড়া দৃষ্টিশূন্য,
গভীর কিছু একটা ভাবছি আমি, এমতাবস্থায় ব্রাশটা ‘দৃঢ়’ভাবে
ধরে রাখার কথা না, খানিকটা শিথিল হবার কথা!
তবে ব্যাখ্যাতীত ব্যাপার যে একেবারে ঘটে না তা তো না!
মানুষের জীবনটা যতটা আটপৌরে ততটাই রহস্যময়,
অন্তত আমার তেমনটাই মনে হয়।
আমার কথাই ধরা যাক;
পুরনো ইজেলটায় ক্যানভাস লাগিয়ে
ডজনখানেকেরও বেশি অয়েল পেইন্টিং করেছি,
এঁকেছি কিছু জলছবিও; যে পথে কখনো হাঁটা হয়নি,
যে বৃক্ষ আমি কোনোদিন দেখিনি, যে আকাশ-নদী-জল
আমি স্পর্শ করিনি, যে মানব-মানবীরা আমায় ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়নি—
প্রান্তিক ক্যানভাসে সেসব আমি চিরতরে বন্দি করেছি।
প্রান্তিক আমি, অনিরুদ্ধ তোমাকে ছুঁয়েছি,
নিঃশব্দ নিনাদে বলেছি—‘ভালোবাসি, ভালোবাসি।’
