টাকা বিক্রি হয় ওজন মেপে!

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৫

 

অবিশ্বাস্য এক দেশ সোমালিল্যান্ড। দেশটির বাজারে পণ্যের বদলে বিক্রি হচ্ছে মুদ্রা! খোলা রাস্তায় দিন-দুপুরে ক্রেতারা বিনিময় করে নিয়ে যায় রাশি রাশি নোট। এই নোট ক্রয় করা হয় পানি, দুধ কিংবা পশু-পাখির বিনিময়ে। এক পাতিল দুধ কিনতে একবস্তা টাকার প্রযোজন হয় দেশটিতে। আর গরু-ছাগল বা এক মণ গমের বদলে পাওয়া যায় গাড়ি ভর্তি টাকা!

দেশটিতে টাকার বাজার গড়ে ওঠার নেপথ্যে তাদের আর্থিক কাঠামোই দায়ী। সোমালিল্যান্ডের মুদ্রাকে বলা হয় ‘শিলিং’। শিলিংয়ের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২০০০ সালে ১ ডলারের দাম ছিল ১০ হাজার শিলিংয়ের কাছাকাছি। ২০১৭ সালের প্রথমদিকে ৯ হাজার শিলিংয়ের সমান ছিল ১ ডলার। বর্তমানে ১ ডলার খরচ করলেই পাওয়া যায় কয়েক কেজি শিলিং! যা নিতে বস্তা বা ঠেলাগাড়ির প্রয়োজন হয়। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনতে গেলেও টাকার বস্তা নিয়ে বের হতে হয়। শিলিংয়ের এমন মূল্যহীনতার কারণেই সোমালিল্যান্ডের টাকার গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। টাকার দাম এখানে এতই কম যে, এ টাকার বাজারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেই। এমনকি ছিনতাইকারী, চোর বা ডাকাতও চুরি করতে আগ্রহ দেখায় না!

১৯৯১ সালে সংগ্রামের পর সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে পতন করে নিজেদের অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করে সোমালিল্যান্ড। সেই বছরই তারা নিজেস্ব সরকার গঠন করে। গঠন করে নিজেস্ব সংবিধানও। তাদের নিজেস্ব সেনাবাহিনী ও পুলিশ ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে পৃথিবীর কোনো দেশই সোমালিল্যান্ডকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। অথচ সোমালিল্যান্ড হানাহানিবিহীন একটি দেশ। সোমালিয়ার মতো এখানে নেই কোনো জলদস্যু সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ গোলযোগ।  আয়তনের দিক থেকে দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে খানিকটা ছোট, কিন্তু তাদের জনসংখ্যা জনসংখ্যা মাত্র ৪২ লাখ।

দেশটিতে খাদ্যের অভাম চরম। সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয় পানির জন্য। পানির কষ্ট যে কত দুর্বিষহ তা সোমালিল্যান্ডের মরুভূমির গ্রামের মানুষদের না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এক গ্লাস পানি ঢালতে আমরা যে পরিমাণ নষ্ট করি সেই একই পরিমাণ পানির জন্য জীবন চলে যাচ্ছে আফ্রিকার গভীর মরুভূমির গ্রামে গ্রামে। মরুভূমির গ্রামে পানির হাহাকার দেখে মনে হয় এ যেন কারবালার প্রান্তর। পানির খোঁজে বাপ-দাদার ভিটেমাটি, সহায়-সম্বল ফেলে মরুভূমিতে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলেছেন তারা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একগ্লাস পানি কিনতে তাদের খরচ করতে হয় আধা কেজি টাকা!