প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি প্রতিবন্ধী যুবক তাওহীদ আহ্মেদ বিপ্লবকে। তিনি সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে লেখাপড়ার পাশাপাশি ৩০ টি পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলেছেন। করছেন গবাদি পশুর ওষুধ, মুরগীর বাচ্চা ও ফিডের ব্যবসা। ব্যবসা সফল এ প্রতিবন্ধী গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সে এমবিএ পড়ছেন।
তাওহীদ আহ্মেদ বিপ্লব গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমান শেখের ছেলে।
তাওহীদ আহ্মেদ বিপ্লবের বাবা আতিয়ার রহমান শেখ জানান, ১৯৯১ সালের ২০ জুলাই বিপ্লব জম্ম গ্রহণ করে। ৫ মাস বয়সে তাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পোলিও দেয়া হয়। এতে প্বার্শ প্রতিক্রিয়ায় তার হাত পা শুকিয়ে যায়। ২০০৭ সালে বিপ্লব এসএসসি পাশ করে। ২০১০ সালে সে কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি ও ২০১৪ সালে ডিগ্রি পাশ করেছে। ২০১১ সালে বিপ্লব পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা শুরু করে। এ পর্যন্ত সে ৩০ ফার্ম সম্প্রসারিত করেছে। ২০১৫ সালের শুরু থেকে সে গবাদি পশুর ওষুধ, মুরগীর বাচ্চা ও ফিডের ব্যবসা আরম্ভ করে। ব্যবসায় সে সফল। এখন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সে এমবিএ পড়ছে। তার এ সাফল্যের পেছনে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণি সম্পাদ কর্মকর্তা ডা. সৌরেন্দ্র নাথ সাহার আবদান রয়েছে। তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার প্রাণি সম্পদের উন্নয়নে কাজ করে যচ্ছেন।
তাওহীদ আহ্মেদ বিপ্লব বলেন, ‘আমি লোক রেখে আমার তত্ত্বাবধানে পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসা শুরু করি। এখন আমার ফার্মের সংখ্যা ৩০ টি। এছাড়া আমি গবাদি পশুর ওষুধ, মুরগীর বাচ্চা ও ফিডের ব্যবসা করছি। ব্যবসা আল্লাহর রহমতে ভালোই চলছে। আমার পরিবার আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে বলেই আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। শ্রম মেধাকে কাজে লাগিয়ে আমার মতো প্রতিবন্ধীরা কাজ করলে তারাও সফল হতে পারবে। ভবিষ্যতে আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার আশা রাখি।’
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৌরেন্দ্র নাথ সাহা বলেন, ‘বিপ্লব অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সে আমাদের পরামর্শে ফার্ম ও ব্যবসা করে সফল হয়েছে। তার মধ্যে কর্মস্পীহা রয়েছে। এটি তাকে আরো বড় ধরনের সাফল্য এনে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
