কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক গৃহবধূকে (৩৬) গাছে বেঁধে বিবস্ত্র করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে সতীনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে এলাকার মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ মার্চ (রবিবার) উপজেলার গোলাপনগর বাজার এলাকায় ওই নারী নির্যাতনের শিকার হন। এদিন বিকেলে তার স্বামীর আগের পক্ষের স্ত্রী, বাবা, মা, চাচাতো ভাই ও চাচাতো দুলাভাই তাকে বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বিবস্ত্র করে চুল কেটে দেয়। এরপর চলে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন।
এ ঘটনায় প্রথমে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকের ভয়ে প্রতিবেশীরা না এগোলেও তার আর্তচিৎকারে পথচাচীরা এগিয়ে আসেন। তারা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেন। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছে।
নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, ‘এমন নির্যাতনের শিকার যেন আর কোনো নারী না হয়। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের বিচার চাই।’
এদিকে ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘আমি বিয়ে করে ভুল করেছি। তার জন্য আইন আছে। কিন্তু আমার স্ত্রীর ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ভাই বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতিতা গৃহবধূকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার চুল কাটা ও শরীরে কিছু কিছু স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি এখন চিকিৎসাধীন। অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।’
আরও পড়ুন: রৌমারীতে চাল সংগ্রহে অনিয়ম, বঞ্চিত কৃষক, অধিকাংশ চালকল বন্ধ
ভেড়ামারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শামীম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
