শচীন দেব বর্মণের জীবনী বইয়ের প্রকাশনা উত্সব

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:১৪

কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণের জীবনীভিত্তিক বই ‘শচীন দেববর্মণ-মর্ত্যের রাজ্য ছেড়ে সুরের সাম্রাজ্যে’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হলো। দৈনিক আমাদের কুমিল্লার আয়োজনে গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাকক্ষে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, দৈনিক আমাদের কুমিল্লার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহজাদা এমরান।

 
অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক রচিত ৫৪৪ পৃষ্ঠার বইটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে ১০টি অধ্যায়। বইয়ে শচীন দেববর্মণের সংগীত জীবনের উত্থান, তার সংগীত সাধনার নানা ইতিহাসের পাশাপাশি উঠে এসেছে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কথা। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও আইএফআইসি ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রকাশিত হয়েছে বইটি।
 
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান কুমিল্লায় শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়ি পরিপূর্ণভাবে উদ্ধার করে সেখানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
 
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জানান, কুমিল্লায় শচীন দেববর্মণের পিতৃগৃহটিকে সংস্কার করে সেখানে একটি ‘মিউজিক আর্কাইভ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতের সমৃদ্ধ ধারাগুলোকে এই আর্কাইভে জড়ো করা হবে সেখানে। পাশাপাশি একে সঙ্গীতপ্রেমীদের নিয়মিত চর্চাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথাও উল্লেখ করেন।
 
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বইটি নিয়ে বলেন, সংস্কৃতিক্ষেত্রে গবেষণাধর্মী বই এমনিতেই অনেক কম। এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকবে।
 
কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা লোকসংগীত সংগ্রহ প্রকাশে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের কাজ সারা বাংলাদেশেই করা যেতে পারে।
 
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহযোগিতায় উত্তরার আজমপুর সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয়েছে দশদিনব্যাপী ‘বিজয়ের বইমেলা ২০১৬’। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল এ বইমেলার উদ্বোধন করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আখতারুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি।
 
এ বইমেলায় সরকারি-বেসরকারি মোট ৮৫টি প্রকাশনা সংস্থা/প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে সরকারি ৫টি। এগুলো হলো জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, নজরুল ইন্সটিটিউট, শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আর জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির ৮০ টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
 
৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ মেলা প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিন সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ইত্তেফাক/এএন