আরবি বার মাসের মধ্যে চার মাস অতি সম্মানিত। এসব হলো-মুহাররম, রজব, যুলকদাহ এবং যুলহিজ্জাহ। এসব মাসে ঝগড়া-বিবাদ, খুন-খারাবি, যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি অন্যায় হতে দূরে থাকা সব মুসলিমের ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এ মাসগুলোতে তোমরা পরস্পরের ওপর অত্যাচার করো না।’ (আল কুরআন, সূরা তাওবা, ৩৬)। এ মাসগুলোকে নিষিদ্ধ ও সম্মানিত মাস এ জন্য বলা হয় যে, এতে যুদ্ধবিগ্রহ হারাম (নিষিদ্ধ)। তবে শত্রুপক্ষ যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় তো ভিন্ন কথা।
রজব ও শাবানে আমরা যা করতে পারি : (১) সোম ও বৃহস্পতিবার দিনের রোযা:প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার দিন নফল রোযা রাখা সুন্নাত ও মুস্তাহাব। কারণ, তা ছিল মহানবী (স) এর আমল। আর এই দুই দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়। মা আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল (স) সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’ (তিরমিযী, সহীহ তারগীব ১০২৭)।
(২) ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের রোযা:প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোযা রাখা সুন্নাত। আবু দারদা (রা) বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (রাসূলুল্লাহ) আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, ‘যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা (আইয়ামে বীয এর ৩ দিন) পালন করা, চাশতের নামায পড়া এবং বিতির না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।’ (সহীহ মুসলিম ৭২২, আবু দাউদ ১৪৩৩, আহমাদ) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (স) বাড়িতে থাকাবস্থায় অথবা সফরে থাকাবস্থায় কখনোই আইয়ামে বীযের রোযা ছাড়তেন না।’ (নাসায়ী ২৩৪৫, তাহকীকরিয়াদুস সালেহীন)
(৩) নফল সলাত: এ মাসে বেশি বেশি নফল সলাত বা নামায আদায় করা যায়। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছি। ‘আফযালুস সলাতি বাদাল মাফরুদাতি সলাতুল লাইলি’ অর্থাত্ ফরয নামাযের পর সবচেয়ে উত্তম নামায হলো তাহাজ্জুদের নামায (১১৬৭/২)।
(৪) কোরআন তেলাওয়াত: এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। রাসূল (স) বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি নেকি পাবে। আর একটি নেকি দশটি নেকির সমপরিমাণ। (তিরমিযী) রাসূল (স) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ, যে আল কোরআন নিজে শেখে ও অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি) হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ানো এবং তেলাওয়াতের কারণে আমার কাছে কিছু চাইতে পারল না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীর চেয়েও বেশি দান করি।’ (৫) গুনাহ ত্যাগ:এ মাসে ছোট ও বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা ৪টি সম্মানিত মাসে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।
(৬) রজব মাসের দোআ :আনাস (রা) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত, ‘রজব মাস এলে নবীজি (স.) এ দোআটি পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ও শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রমাযান’ অর্থাত্ হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং রমাযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। হাদিসটি আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে, তাবরানি আল মুজামুল আওসাদ গ্রন্থে এবং বায়হাকি শোয়াবুল ঈমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটি দোআ তাই এর ওপর আমল করা উচিত।
(৭) শাবানের রোযা:আয়েশা (রা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (স) এমনই সাওম রাখতেন যে, আমরা বলতাম তিনি সওম ভাঙবেন না। আবার এমনই সওম ভাঙতেন যে, আমরা বলতাম তিনি সওম রাখবেন না। তিনি রমাযান ছাড়া কোনো সম্পূর্ণ মাস সওম রাখেননি। এ ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবানের চেয়ে বেশি সওম পালন করতে আমি তাকে দেখিনি।’ (সহীহ বুখারি-১৮৩৩, সহীহ মুসলিম-১৯৫৬)
lলেখক :প্রভাষক, শাহ মখদুম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং টিভি ও রেডিও আলোচক
