এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জেলা পরিষদের দিকে তেমন নজর দিতে পারেননি। সোমবার থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশন থেকে বলা হয়, কিছু কিছু অভিযোগ তারা মৌখিকভাবে জানছেন। কেউ অভিযোগ করুক না করুক নারায়ণগঞ্জের অর্জন ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না কমিশন।
প্রসঙ্গত. প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় ও পরোক্ষভোটের বিধানে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা করে প্রার্থী নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও এ নির্বাচনে বিএনপিসহ অপরাপর কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য অংশ নিচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগেরই স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে দলের কারো প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ করেনি আওয়ামী লীগ। কিন্তু সরকারের ভেতরে কিছু কিছু সংগঠন, ব্যক্তি পছন্দের ব্যক্তিকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা পরোক্ষভোটে পাস করিয়ে আনার কৌশল আঁটছেন।
বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, পরোক্ষ হলেও ভোটে যে উত্সাহ বা আগ্রহ থাকার কথা সেটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে নিজেরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে একটি ভালো নির্বাচন করার বড় সুযোগ ছিল ছোট অর্থাত্ ৬১ জেলার এ নির্বাচনে। যদিও ইতোমধ্যে ২৫ জেলার চেয়ারম্যান বিনা ভোটে হচ্ছেন। আর সদস্য পদে ৯১৫ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩০৫ জনের মধ্যে ৫১ জনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সব মিলিয়ে ৬১ জেলা পরিষদে তিন পদে ২০৮ জন প্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অর্থাত্ নির্বাচনী গণ্ডি আরো সংকুচিত হয়ে আসছে। এরকম বাস্তবতায় নিরুদ্বিগ্ন একটি নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পক্ষান্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় গণতন্ত্রের জন্য হতাশাজনক বলছেন অনেকে।
এদিকে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে বেশকজন প্রার্থী তারা প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী নির্ধারিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা এবং সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। এরকম একজন প্রার্থীর সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হয় কমিশন সচিবালয়ের সামনে। দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার চেয়ারম্যান পদের এই প্রার্থী জানান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইতোমধ্যে পুলিশকে দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোট নিজের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ভোটের আশা নিয়ে এসেছেন।
দেশের অনেক জেলা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, চেয়ারম্যান শুধু নয়, পছন্দের সদস্যদের পাস করাতেও বা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরাতে পুলিশকে দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জানা যায়, চেয়ারম্যান পদে ১৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। সদস্য পদে তিন হাজার ৫৬১টি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদের জন্য ৮৯৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ের পর সাধারণ সদস্য পদে একক প্রার্থী রয়েছেন ১৩৭ জন, আর সংরক্ষিত ৫১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।
চেয়ারম্যান পদে বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, গাজীপুর, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝালকাঠি, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
এ ছাড়া বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফরিদপুর, ফেনী, গোপালগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মাদারীপুর, নীলফামারী, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, নরসিংদী, রংপুর ও শরীয়তপুর জেলায় রয়েছেন দুজন করে প্রার্থী। খুলনা, মাগুরা, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী ও রাজশাহীতে রয়েছেন তিনজন করে। চারজন করে প্রার্থী রয়েছেন বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, নোয়াখালী, পাবনা, পিরোজপুর, রাজবাড়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও লালমনিরহাট জেলায়। পাঁচজন করে প্রার্থী রয়েছেন গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে। চাঁদপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন করে প্রার্থী, জামালপুরে রয়েছেন সাতজন এবং সর্বোচ্চ আট প্রার্থী রয়েছেন পঞ্চগড়ে।
