নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ গত বিশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমলো। গেলো ২০১৫ সালে প্রকৃত ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো ঋণাত্মক হয়েছে। অর্থাত্ দেশগুলোতে যে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি পূর্বের ঋণ ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মন্দার পর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থছাড় কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ডেট স্ট্যাটিস্টিক্স-২০১৭ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের ১২৩টি দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে দেশগুলোতে প্রকৃত অর্থছাড় করা হয়েছিল ১ হাজার ১৫৯ বিলিয়ন ডলার। এটি ২০১৫ সালে তিন ভাগের এক ভাগে নেমে হয়েছে ৩৭৯ বিলিয়ন ডলার।
নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মোট বহিঃ ঋণের স্থিতি ৬ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। প্রতিবছরই বহিস্থ ঋণের আকার বাড়ছিল। গত বিশ বছর যাবত্ এটি ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল। এই প্রথমবার বছর ভিত্তিতে এটি কমে আসলো। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করছে চীন। ফলে চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এর সার্বিক দিকগুলোর উপর প্রভাবিত করেছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চীন মোট ঋণের ৪০ ভাগ গ্রহণ করেছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে সার্বিকভাবে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় সামান্যই বেড়েছে। এই সময়ে কয়েকটি দেশের মুদ্রামান ব্যাপক পতনের ফলে বৈদেশিক দায় তুলনামূলক বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোতে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ বেড়েছে। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার জন্য স্বল্প মেয়াদী ঋণ কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এর কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ বেড়েছে। ২০১৫ সালে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৮৬৪ কোটি ডলার। যা ২০১৪ সালে ছিল ৩৫৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ১.৮ শতাংশ নীট বৈদেশিক সহায়তা হতে সরকারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায় ৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশে এফডিআইও রেকর্ড পরিমাণ এসেছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থিক প্রবাহ এক বছরের ব্যবধানে ২২ শতাংশ কমে ২০১৫ সালে ৮৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই অর্থায়ন দক্ষিণ এশিয়ার মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। ২০০৮ সালে বিশ্ব মন্দা শুরু হওয়ার পর এটি জিএনআই এর হিসাবে সবচেয়ে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
