আসছে রোহিঙ্গা কাঁপছে শীতে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:৪৪

পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের মংডু ও বুচিদং রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত প্রায় ১৭টি গ্রামে লুটপাট অগ্নিসংযোগ করে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে মিয়ানমার জান্তা বিজিপি ও সশস্ত্র রাখাইন যুবকরা। তাদের নগ্ন হামলায় স্বজনহারা প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। শীতের মধ্যে তারা খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছে।  গত বুধবার ভোররাতে মংডু নাইচ্ছংপাড়া থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং বস্তির বাইরে বনভূমির পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া চার বছরের শিশু আরফাত শীতে কাঁপছিল। জড়োসড়ো হয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে শিশুটির চোখে মুখে ভেসে উঠছিল আতঙ্কের ছাপ।

 
সে কিছু বলতে না পারলেও তার চোখ বলছে— সে যেনো কি হারিয়ে ফেলেছে, তাকে অথবা তার মাকে হামলার জন্য কেউ আসছে। ওই শিশুটির মা মলিয়া খাতুন (২৮) জানান, মগ সেনারা তার স্বামী আলতাজকে তাদের চোখের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে তিনটি ছেলে-মেয়েসহ তাদের ঘরের বাইরে এনে বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। বাড়ি পুড়ে না যাওয়া পর্যন্ত মগ সেনারা দাঁড়িয়ে থাকায় ছেলে-মেয়েদের কাপড়গুলো পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।  মংডু কাউয়ারখোপ থেকে উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে আসা আছিয়া ও মরিয়ম জানায়, তাদের স্বামীকে মিয়ানমার সেনারা ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ায় আশ্রয়হীন অবস্থায় সাত-আটদিন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার পর অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারাও কোনো রকমে এ বস্তিতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তবে শীতে তারা খুবই কষ্ট পাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএন