আনন্দ বাজার-আমিরাবাদ বাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:২২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আনন্দ বাজার-আমিরাবাদ বাজারের পাকা রাস্তা বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। স্থানীয়দের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা ঘেঁষা পুকুরে মাছ চাষ ছাড়াও রাস্তায় ছয় চাকার মালবাহী যানবাহন ও ট্রাক্টর নিয়মিত চলাচল এবং রাস্তার ঢাল থেকে মাটি কেটে নেওয়া প্রভৃতি সড়কের এ দুর্দশার কারণ বলে দাবি করেছে খোদ এলজিইডি।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—এলজিইডির এ রাস্তাটি আমিরাবাদ থেকে গোলাম মাওলাদের বাড়ি সংলগ্ন, বাবুল মাস্টারের বাড়ি, সেকান্দার মাস্টারের বাড়ি, সাধু-মধু বেপারীদের বাড়ি, কাশেম সর্দারের বাড়ি, ডা. তাহের আলীর বাড়ি, বিল্লাল দেওয়ানের বাড়ি, জসিম মুন্সির বাড়িসহ সাধু-মধু বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শফিক পাটোয়ারী ও নাছির উদ্দিন মুন্সি জানান, ‘এ রাস্তার আমিরাবাদ থেকে গৌরাঙ্গ বাজার পর্যন্ত ছয়টি পুকুরে মাছ চাষ এবং গৌরাঙ্গ বাজার থেকে নয়াকান্দি পর্যন্ত ৬টি পুকুরে মাছ চাষ রাস্তা রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রাস্তা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আমিরাবাদ বাজার, উপজেলার প্রচীনতম চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফরাজীকান্দি কামিল মাদ্রাসা, নেদায়ে ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা, ফরাজীকান্দি সোনালী ব্যাংক, ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ, তিন ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত একমাত্র আমিরাবাদ ভূমি অফিস, গৌরাঙ্গ বাজার, ফরাজীকান্দি পোস্ট অফিস, গৌরাঙ্গ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হবে।’

স্থানীয়রা জানান—গৌরাঙ্গ বাজার ও উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্ আনন্দ বাজারের সকল প্রকার মালামাল নদী পথে আমিরাবাদ বাজারে এসে পৌঁছালে ছয় চাকার মালবাহী ট্রাক দিয়ে মালামালগুলো বাজার দুটিতে পৌঁছানো হয়। রাস্তার দুই পাশে কয়েকটি মাছ চাষের পুকুর ও বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তার দুই পাশে অনেক পানি থাকে। এরই মধ্যে মালবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

রাস্তার পাশের পুকুরে মাছ চাষচাষি ফয়জল হক বলেন, ‘যাতে রাস্তার ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি নজরে রেখে মাছ চাষ করছি।’

আরেক মাছচাষি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তার ঢালে মাটি না থাকায় বর্ষায় রাস্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি বাজারের মালামাল ছয় চাকার ট্র্যাক্টরে পরিবহন করায় রাস্তা ভেঙে যায়।’

মালামাল পরিবহনকারী ট্র্যাক্টর চালক আবুল হোসেন ও আলী আকবর জানান, ‘রাস্তা যত দিন ভালো ছিল আমরা মালামাল পরিবহন করেছি। রাস্তা ধসে যাওয়ায় এখন এ পথে আমাদের যাতায়াত বন্ধ।’

স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তার দুর্দশার কারণে তিন ইউনিয়নের মানুষের আমিরাবাদ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দলিল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়ার প্রধান রাস্তাটি বিভিন্ন স্থান ধসে গেছে। বহুদিন এটা সংস্কার হয় না। শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এনামুল হক বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খারাপ তা আমরা জানি। রাস্তার দুপাশে মাছ চাষ এবং ছয় চাকার মালামালবাহী ভারী যান চলাচলের কারণে রাস্তা রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাই আমরা এ রাস্তার কোনো প্রকল্প নেইনি।’