বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী নরওয়ে

এসডিজি অর্জনের পথে বাংলাদেশ :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৩৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জনে সফলতার পর সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেনের সৌজন্য সাক্ষাত্কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরওয়ের সঙ্গে বিদ্যমান চমত্কার সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে এসডিজি বাস্তবায়নে দু’দেশের এক সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

 
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যকার সহযোগিতা জোরদারের পন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নরওয়ের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে। নরওয়ে মত্স্য, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ খাতেও বিনিয়োগ করতে পারে। এছাড়া জ্বালানি খাত ও সমুদ্র ভূতাত্ত্বিক জরিপে সহযোগিতাকেও স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বনায়ন, উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা ও অন্যান্য কার্বন নিষ্ক্রিয়করণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার দেশ নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি শুরু করেছে এবং সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
 
জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যু তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশ আশা করে বিভিন্ন দেশ প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর বৈশ্বিক উষ্ণতা কমে আসবে। তিনি সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। দেশের পানি সম্পদের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যক্তিখাতের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে প্রয়োজনীয় জলাধার রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। নরওয়ে বাংলাদেশে সিসমিক সার্ভে করলে স্বাগত জানান হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এবং নরওয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ খুবই আকর্ষণীয় একটি দেশ। তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করেন। মিজ ব্লেকেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ। তিনি বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে নরওয়েতে বাংলাদেশের রফতানি ৬০ শতাংশ বেড়েছে। রাষ্ট্রদূত এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে দেশটি উত্সাহব্যঞ্জক সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে এক সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
সাক্ষাত্কালে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নরওয়েতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফলতার প্রশংসা করেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। এসডিজি অর্জনেও বাংলাদেশ সফল হবে বলে আশা করেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
নিহত চার পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অনুদানের চেক প্রদান
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের জুলাইয়ে গুলশানে হোটেল আর্টিজান বেকারিতে এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদ জামাতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪ পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে আজ আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন। গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সিনিয়র সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট রবিউল করিম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন খান চলতি বছরে ১ জুলাই হোটেল আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদ জামাতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন কনস্টেবল জহুরুল হক ও কনস্টেবল আনসারুল হক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল বুধবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকার ৯টি চেক হস্তান্তর করা হয়।
 
রবিউল করিমের মা করিমন নেছা, পিতা সাজেদুল ইসলাম, স্ত্রী উম্মে সালমা, সালাউদ্দিন খানের স্ত্রী বেগম রিম করিম, কন্যা সামান্থা, পুত্র সেম রাইয়ান, কনস্টেবল আনসারুল হকের মা রাবেয়া আক্তার, স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম এবং কনস্টেবল জহিরুল হকের মা জুবাইদা খাতুন চেক গ্রহণ করেন। চেক গ্রহণকালে নিহত পুলিশ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। চেক প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক।

ইত্তেফাক/এএন