লন্ডনে বাংলাদেশি-পাকিস্তানি কমিউনিটির ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকার ভোট দেয়া সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধনী এনে নতুন করে কঠোরতা আরোপ করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বিধিমালায় বলা হয়েছে- একজন ভোটারকে বাধ্যতামূলকভাবে ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদানকালে তার অফিসিয়াল আইডি দেখাতে হবে।
এই আইনের সমালোচনা করে লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন বলেছেন, এর ফলে গরিব এবং কর্মজীবী মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হবে। তিনি কারণ হিসাবে বলেছেন যে, স্বল্প আয়ের এবং কর্মজীবী মানুষের অধিকাংশেরই পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। আর এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই লেবার পার্টির ভোটার। ফলে লেবার পার্টি আগামী নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরো বলেছেন, ভোট জালিয়াতের সংখ্যা যুক্তরাজ্যে খুবই নগন্য। অতএব সাধারণ মানুষের ভোট দানের ক্ষেত্রে এই ধরণের কঠোরতা আরোপের কোনো মানে হয়না। যুক্তরাজ্যে অফিসিয়াল আইডি হিসাবে যেসকল আইডি কার্ড গ্রহণ করা হয় তারমধ্যে পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটেনের উচ্চ আদালতে ২০১৫ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার পর তাকে মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার এবং পরবর্তী একাধিক নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেন বিচারপতি মি. রিচার্ড মোরে (Richard Mawrey)।এরপর থেকেই যুক্তরাজ্যে জাতীয়ভাবে ভোট জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে। দেখা যায় বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মাঝে ভোটজালিয়াতি এবং স্বজনপ্রীতি বেশি।
ব্রিটিশ সরকার ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রণীত এই বিধিমালায় স্পষ্ট করেই বলেছে- একজন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে কর্মকর্তার সামনে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। অনুপস্থিত ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই বিধি আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে যারা ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না তারা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ভোট দিয়ে থাকেন। ভোটগ্রহণের আগে তাদের বাসায় ব্যালট পৌঁছে দেয়া হয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যে কাউকে নমিনি নিযুক্ত করেও ভোট দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এদেরকে অনুপস্থিত ভোটার হিসাবে কাউন্ট করা হয়। এখন থেকে এ সকল ক্ষেত্রেও ভোটারের নিজস্ব আইডি উপস্থাপন করতে হবে। মূলত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে পোস্টাল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ বেশি উঠেছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
