ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শনির আখড়া ও দোলাইরপাড় এলাকা নিয়ে কর অঞ্চল-১৩ গঠিত। এই কর অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার করদাতা রয়েছে। নতুন করে আরো অন্তত ২০ হাজার ব্যক্তিকে করের আওতায় আনার লক্ষ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে এই কর অঞ্চল। গতকাল বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিবির বাগিচার নূর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর অঞ্চল-১৩ এর কমিশনার বজলুল কবির ভূঞা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য মেফতাহ উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জরিপ কার্যক্রমকে করদাতাবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার আহ্বান জানান। এটি যাতে মর্যাদা হানিকার কিংবা মানুষের কাছে ভীতির কারণ না হয়, সে আহ্বানও জানান। ব্যবসায়ী হাজী তৌহিদুর রহমান বলেন, আমরা কর দিতে চাই। কর প্রদান পদ্ধতি সহজ করা দরকার। আবুল হোসেন মুন্সি বলেন, করদাতা জরিপের মাধ্যমে যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, আগামীতে বিকাশ, রকেটের মত সহজ ব্যবস্থায় যাতে কর প্রদান করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। করদাতা বাড়লে করহার কমিয়ে দিলেও কর আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এ সময় জরিপ কার্যক্রমের সময় মানুষের সঙ্গে কর কর্মকর্তাদের সহানুভূতিশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তা সদয় আচরণ না করলে আমাদের ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানাবেন। আমরা সংশোধনের উদ্যোগ নেব। এ সময় করদাতাদেরও সঠিক কর প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
বজলুল কবির ভূঞা জরিপকালে করদাতারা হয়রানির শিকার হবেন না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, করদাতারা হয়রানির শিকার হলে আমি দায়ী থাকবো। তা হতে দেবো না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কর কমিশনার সুবর্ণা চৌধুরী, রাসেল চাকমা, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদুল ইসলাম, উপ কর-কমিশনার মাহবুবুল হাসান প্রমুখ।
