আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের তিনদিন পর শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ খুলেছে। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়। একই সঙ্গে খুলে দেয়া হয় হলগুলো।
জানা যায়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডা. হাবিবুর রহমান পলাশ সমর্থিত গ্রুপ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডা. মো. হান্নান সমর্থিত গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মীরা কলেজের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারসহ প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ গ্রুপে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে ও বুধবার সকালে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এসময় ডা. শাহ আলম বীর উত্তম ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুর চালানো হয়। এতে কলেজের কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এই ঘটনায় গত বুধবার দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সভা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণাসহ শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পরে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ঐ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে কলেজ ও হলগুলো শনিবার থেকে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মহসিন উজ্-জামান চৌধুরী জানান, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকাল আটটা হতে কলেজের ক্লাশসও হোস্টেল খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত ছাত্রদের সামাজিক সংগঠনসহ সকল সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং হোস্টেলের সকল মনিটর কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএসএস
