বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ নিজেও। স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার হয়তো দলে ফিরবেন। কিন্তু ফিঞ্চের যে বাজে ফর্ম, তার সমাধান কেউ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। প্রায় এক বছর ধরে এই ওয়ানডে ওপেনারের ব্যাটে ফিফটি ছিল না।
ফিঞ্চ নিজেই নিজের সমাধান হয়ে এলেন। অবশেষে উপমহাদেশে সফরে এসে শুধু ফর্ম খুঁজে পেলেন তাই নয়, হয়ে উঠলেন এই সময়ে দুনিয়ার সবচেয়ে ইনফর্ম ব্যাটসম্যান। বুধবার রাতে তার আরেকটি ভয়ানক ইনিংসে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। অল্পের জন্য টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি মিস করলেন ফিঞ্চ। কিন্তু ভারতের পর পাকিস্তান জয়ও নিশ্চিত হলো তাদের। এখন সুখী দল হিসেবেই বিশ্বকাপে যেতে পারবে অস্ট্রেলিয়া।
২০১৮ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন ফিঞ্চ। এরপর থেকে গত প্রায় ১০ মাসে আর ৫০ রানও পার করা ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ৯টি ওয়ানডে খেলে ফেলেছে। অবশেষে এই খরাটা ফিঞ্চ ঘোচান ভারত সফরের তৃতীয় ওয়ানডেতে। তার ৯৩ রানের ইনিংসে ভর করে সিরিজে ফেরা জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ১১৬ ও অপরাজিত ১৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। আর বুধবার ৯০ রানের ইনিংস খেলেন।
ফিঞ্চের এই দূরন্ত ফর্মে ভর করেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডে জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। ৫ ম্যাচের সিরিজে এখন তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
অথচ এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না। বিনা রানেই প্রথম ওভারের শেষ বলে তারা উসমান খাজার উইকেট হারিয়েছিল। এরপর শন মার্শও ১৪ রান করে যখন ফিরে আসেন, তখন দলের রান ২০। আর এখান থেকেই পিটার হ্যান্ডসমকম্বকে নিয়ে প্রথম পাল্টা আক্রমণ করেন ফিঞ্চ। হ্যান্ডসকম্ব ৪৩ বলে ৪৭ রান করে ফেরেন। স্টয়নিস ১০ রান মাত্র করতে পেরেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার ইদানীংকালের সেরা ভরসা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ঝড় বইয়ে দেন পাকিস্তানি বোলারদের ওপর।
ম্যাক্সওয়েল ৫৫ বলে ৭১ রান করে ফেরেন। এর আগেই ফিরে আসেন ফিঞ্চ। মাত্র ১০ রানের জন্য টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিটা মিস করেন তিনি। ১৩৬ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৯০ রানের ইনিংস খেলেন। সবমিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ২৬৬ রান তোলে।
ব্যাট হাতে ফিঞ্চ ও ম্যাক্সওয়েল ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিলেন। তবে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার কাজটা করেন প্যাট কামিন্স। ২৬৭ এমন বিরাট কোনো লক্ষ্য নয়। কিন্তু সেই লক্ষ্যকেই পর্বত বানিয়ে ফেলেন ফিঞ্চ নিজের ২ ওভারের মধ্যে পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে। শান মাসুদ, হারিস সোহেল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট তুলে নেন তিনি। ফলে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
এরপর ইনাম-উল-হকের ৪৬ ও ইমাদ ওয়াসিমের ৪৩ রান পাকিস্তানকে সান্ত্বনা দিয়েছে কেবল। নিজেদের ‘হোমে’ অলআউট হয়েছে তারা ১৮৬ রানে। ফলে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। এখন হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের।
