১৫ ম্যাচ, ৬৫ দিন, তিনটি শিরোপা! ইতোমধ্যেই কারাবাও কাপের শিরোপা জয়ী ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এ বছর সম্ভাব্য চারটি শিরোপাই জয় করার দারুণ সুযোগ আছে। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এমন কীর্তি নেই আর কোনো দলেরই। তাই সিটির সামনে যেমন সুযোগ আছে, মুদ্রার উল্টোপিঠে থাকছে প্রত্যাশার চাপও। কোচ পেপ গার্দিওলা অবশ্য এখনই সে ব্যাপারে কথা বলে দলের ওপর এভারেস্টসম চাপ নিয়ে আসতে চাইছেন না।
সামপ্রতিক ফর্ম কথা বলছে সিটির পক্ষেই। সার্জিও আগুয়েরো, রাহিম স্টার্লিংসহ দলের আক্রমণভাগ আছে দারুণ ছন্দে। চোটের কারণে মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন এ মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ছিলেন মাঠের বাইরে। তবে বার্নার্দো সিলভার দারুণ নৈপুণ্য বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের অভাব বুঝতেই পারেননি গার্দিওলা।
তারপর আসেন কোচ নিজে। মাঠের বাইরে যেমন দলকে চাপহীন রাখতে চাইছেন, ঠিক তেমনই মাঠে দারুণ নেতৃত্বে দলকে গুছিয়ে রেখেছেন। দলের প্রথম একাদশের প্রতিটি খেলোয়াড় তার ভূমিকা কি তা জানেন। আর প্রতি ম্যাচেই পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে দারুণ হিসাব কষে খেলোয়াড় বদলি করা তো আছেই। সবকিছু মিলিয়ে সিটির সম্ভাব্য চারটি শিরোপা জেতা অলীক কিছু মনে হচ্ছে না মোটেও।
চেলসিকে হারিয়ে কারাবাও কাপ জেতা সিটি যদি এবার এফ এ কাপের শিরোপা না জেতে তবে এরচেয়ে বেশি বিস্ময়-জাগানিয়া কিছুই থাকবে না। কেননা ইতোমধ্যেই বড় ছয় দলের পাঁচটি প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে। আগামী ছয় এপ্রিল প্রতিযোগিতাটির শেষ চারের লড়াইয়ে ব্রাইটনের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়ে গেলে ফাইনালে ওয়াটফোর্ড অথবা উলভারহ্যাম্পটনের মুখোমুখি হবে সিটি। এফএ কাপের এবারের আসরে সিটি যে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ফাইনালে অনায়াস এক জয়ই পাবার কথা গার্দিওলার শিষ্যদের।
প্রিমিয়ার লিগে সিটির শিরোপাজয়ের পথে অনন্য অন্তরায় লিভারপুল। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩১ ম্যাচ থেকে ৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সিটির চেয়ে দুই পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে ক্লপের দল। তার ওপর শেষ সাত ম্যাচের চারটিই অ্যানফিল্ডে খেলবে তারা। অন্যদিকে শেষ আট ম্যাচের পাঁচটিই প্রতিপক্ষের মাঠে হওয়ায় খেলতে হবে গার্দিওলার শিষ্যদের যার একটি আবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যান ইউ’র বিপক্ষে। তাই ধারণা করা হচ্ছে সিটির শিরোপা চতুষ্টয় জয়ের পথে লিগজয়ই হবে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে টটেনহ্যামের মুখোমুখি হতে যাওয়া সিটির ফাইনালের পথে পাবে আয়াক্স আমস্টারডাম কিংবা জুভেন্তাসকে। সূচির ওপাশে আছে বার্সেলোনা, ম্যানইউ ও লিভারপুলের মতো হট ফেভারিটরা। তাই বলা যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও কঠিন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে গার্দিওলার দল।
গার্দিওলার সাবেক দল বার্সেলোনাকে প্রথম শিরোপাত্রয়ী জিতিয়েছিলেন। এক বছর পর নিয়ে গিয়েছিলেন আরেকটির দোরগোড়ায়। ২০১০-১১ মৌসুমের কোপা দেল রে ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে না হারলে আরেকটি ‘ট্রেবল’ জয়ও করে ফেলতে পারতেন সাবেক বার্সা কোচ। মৌসুমে সম্ভাব্য সব শিরোপার জন্যে প্রস্তুতির ব্যাপারটা তাই গার্দিওলার চেয়ে ভালো আর কেউই জানেন না।
তবে বার্সেলোনার সাফল্য সিটিতেও নিয়ে আসার পথে গার্দিওলার প্রধান চ্যালেঞ্জ ঠাসবুনোটের সূচি। ৩১ ম্যাচ শেষে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল সিটির চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকায় মৌসুমের শেষদিকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে খেলোয়াড়দের লিগ ম্যাচে বিশ্রাম দিতে পারবেন না গার্দিওলা। তার ওপর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ১০ দিনের ব্যবধানে তিনবার মুখোমুখি হতে হবে সিটিকে, যার পরপরই ম্যানইউর আতিথ্য গ্রহণ করবে তারা। মৌসুমের শেষদিকে এতসব হিসাবের মারপ্যাঁচের ঠিকঠাক সমাধানেই নিহিত সিটির চার শিরোপার স্বপ্ন।
তবে স্প্যানিশ কোচ এখনই ‘কোয়াড্রুপল’ ভাবনা মাথায় আনতে রাজি নন। চারটি শিরোপা জেতা সম্পর্কে করা এক প্রশ্নের জবাবে গার্দিওলা বলেন, ‘এ ব্যাপারে এপ্রিলের শেষে জিজ্ঞেস করবেন।’
