নতুন ইসি গঠন নিয়ে সংলাপ

সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা নিরসনে জেপি’র গুরুত্বারোপ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:২২

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টি-জেপি। অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে পদে পদে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি। একইসঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নবগঠিত কমিশনে সাধারণত সবাই নতুন থাকেন-যাদের নির্বাচনের বিষয়ে তেমন পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) পুনরায় সিইসি এবং কমিশনারদের নতুন করে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায় না। সেজন্য পুরনো কোনো অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কমিশনারকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায় কি-না, তা বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি নিজ বিচার-বিবেচনায় বিভিন্ন বিভাগ থেকে অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন-যেখানে নারী প্রতিনিধিত্বও থাকবে, এমন প্রস্তাবও দিয়েছে জাতীয় পার্টি-জেপি।

 
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টি-জেপি’র সঙ্গে আলোচনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নয়, এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতাও অপরিহার্য। তিনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পরমত সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
 
জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে দলটির ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিকাল পৌনে চারটার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। চারটা থেকে দীর্ঘ এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বঙ্গভবনের গেইটে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন ‘একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে নানা বাধা রয়েছে, এবার ইউনিয়ন পরিষদ ও সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনেও টাকা-পয়সার কথা উঠেছে, এগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নিজেও সাতবার নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, কাজেই নির্বাচনের বিষয়ে বর্তমান রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ, আমাদেরও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে নানা বাধা আছে। এগুলো একদিনে সমাধান হবে না, পর্যায়ক্রমে নিরসন করতে হবে।’
 
জেপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন প্রজন্ম। তারা রাজনৈতিক বিভাজনের ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানে না। কিন্তু এখন শিক্ষার হার বাড়ছে, মানুষ উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছে, বিদেশ থেকেও উচ্চডিগ্রি নিয়ে আসছে। সে কারণে আমরা আশাবাদী যে, আগামীতে হয়ত এমন রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে না।
 
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন মানুষ, তিনি তার বিচার-বিবেচনা দিয়ে যেই সিদ্ধান্ত নেবেন তা সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের দলগুলোসহ আমরা সবাই মেনে নেব। না মানলে নির্বাচন হবে কীভাবে!
 
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, বৈঠকে জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য দরকার। নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য একাধিক ধাপে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগেরও প্রস্তাব করেন তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগেও প্রস্তাব করেছে জেপি। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মো. সরোয়ার হোসেন ও রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
 
জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রতিনিধি দলে থাকা দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম জানান, বৈঠকে জেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটের দিনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মানুষ যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে এসে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সেরকম পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে জেপি।
 
প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহিম, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, এটিএম আমিনুল ইসলাম পিন্টু, রুহুল আমিন এমপি, শেখ জয়নাল আবেদীন ও নাজমুন্নাহার বেবী, নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী, ভাইস-চেয়ারম্যান আজিজ বাঙ্গাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু।
 
প্রসঙ্গত, বিদায়ী বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি গঠনে আলোচনা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। গতকাল পর্যন্ত বিএনপি ও জেপিসহ নয়টি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি’র সঙ্গে সংলাপের সূচি রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএন