অবশেষে বীরঙ্গনার খেতাব পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও এদেশীয় রাজাকার আলবদর বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল পশ্চিমপাড়া গ্রামের অসহায় সেই ববিজান বেগম(৬৫)।
দৈনিক ইত্তেফাকে পর পর দুটি স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নির্দেশে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও মির্জাপুরের ইউএনও ববি জান বেগমের সকল দায়িত্ব নিয়েছেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইত্তেফাকের মির্জাপুর সংবাদদাতা মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ও বীরঙ্গনা ববিজান বেগমকে তার কার্যালয়ে ঢেকে নেন।
এসময় জেলা প্রশাসক ববিজান বেগমের জীবন ইতিহাস শুনে হতভম্ব হয়ে পরেন।ববিজান বেগম জেলা প্রশাসককে তার জীবন ইতিহাস বর্ননার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।পরে প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।এ সময় জেলা প্রশাসক ববিজান বেগমকে থাকার জন্য দুই বান্ডিল ঢেউটিন,নগদ টাকা,একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড,থাকার জন্য সরকারী খাস জমির ব্যবস্থা,ব্যাংকে হিসাব খোলার ব্যবস্থা এবং ববিজান বেগমের জীবনের শেষ প্রাপ্য বীরঙ্গনার(খেতাব) সনদপত্র মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এসময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মনিরা সুলতানা,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. আনোয়ার হোসেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) মো. মোকলেছুর রহমান ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে,গত ১ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের ১৫ পৃষ্টায় বীরঙ্গনার খেতাব মেলেনি মির্জাপুরের ববিজানের একটি স্বচিত্র প্রতিবেদন এবং ২ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের মহিলা অঙ্গন বিভাগের ২৩ পৃষ্টায় স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও খেতাব পাননি টাঙ্গাইলের ববিজান বেগম একটি স্বচিত্র বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।প্রতিবেদন দুটি প্রকাশের পর পরই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ববিজান বেগমের বীরঙ্গনার খেতাবসহ তাকে সকল সহযোগিতা করার জন্য কাজ শুরু করেন।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,ইত্তফাকের প্রতিবেদন পরে ববিজান বেগমের বিষয়টি জানতে পেরেছি।তাকে বীরঙ্গনার(খেতাব)সনদ প্রদানসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।এ ধরনের একটি প্রতিবেদন করার জন্য ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদিকে টাঙ্গাইল-৭(মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রনালয় সম্পকির্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন,টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস জানিয়েছেন,ববিজান বেগমকে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
ববিজান বলেন, পাক বাহিনীর ওই অত্যাচারের পর বাংলার মানুষের লাঞ্ছনা, ঘৃণা, অপবাদ আর স্বামীর সংসার হারিয়েছি। তাই লোক লজ্জার ভয়ে এতদিন বীরাঙ্গনার কথা কাউকে বলতে পারিনি। আর যারা আমার বীরাঙ্গনার বিষয়টি জানে, তারাও আমার কোন খবর রাখেনি।
ইত্তেফাক/এমএইচ
