তারা প্রেসক্লাব- নয়াপল্টনে আটকে আছে :নাসিম

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৬

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন করার মুরোদ নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন প্রেসক্লাব-নয়াপল্টনে আটকে আছেন। খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে না পারা বিএনপির ব্যর্থ নেতাদের স্ব স্ব পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গণতন্ত্রী পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, এখনো সময় আছে, প্রেসক্লাব-নয়াপল্টনে আটকে না থেকে সংসদে এসে কথা বলুন। এতে তারা ফল পেলেও পেতে পারেন। নইলে বিএনপির ভবিষ্যত্ অন্ধকার।

রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে   হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি ও দোয়া করি সবাই ভালভাবে ভবন থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। তিনি বলেন, কিভাবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো তা তদন্ত করে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিভক্ত ও বিভ্রান্ত ছিল। এটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। এ বিভক্তির কারণেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাহস পেয়েছিল। কয়েক যুগ পর স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ১৪ দল শেখ হাসিনার  নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও স্বাধীনতা প্রশ্নে কোনো আপস নেই। এই তিন প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাকশাল নাকি অশনি সংকেত। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মার্শাল ল’ কী ভাল ছিল। নাসিম বলেন, বাকশাল অনেক আগেই করা উচিত ছিল। তাহলে এর সুফল পেতাম।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি ভুলের রাজনীতি করছেন। ভুলের পর ভুল, চরম ভুল তারা করছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের পাশে রেখে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলছেন তারা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া এদেশে আর কেউই আন্দোলন করতে পারেনি।  ’৯০, ’৯১ ও ওয়ান ইলেভেনে আওয়ামী লীগ আন্দোলন সফল করেছিল। আওয়ামী লীগের সফল আন্দোলনের ফল ভোগ করেছিল বিএনপি। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জীবন সংকটে তাকে ইউনাইটেড বা বাসার কাছের স্কয়ারে নেওয়া হয়নি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার চিকিত্সার প্রশংসা করেছেন বিদেশি বিশেষজ্ঞবৃন্দ। কিন্তু বেগম জিয়া সেখানে যাবেন না কেন?

গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাহমুদুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি,গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড.শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।