খুলনায় মুক্তিযোদ্ধা হত্যায় ১৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৪১

খুলনা সিটি কলেজে ছাত্র আবুল হোসেনসহ ১৫/২০জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলে মামলাটি দায়ের করেন নগরীর শেখপাড়া বাগান বাড়ী এলাকার বাসিন্দা শহীদ আবুল হোসেনের মা ছকিনা বেগম। আদালত অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেছেন।

 
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- রাজাকার কমাণ্ডার গিয়াস উদ্দিন, তার সহোদর মোমতাজ উদ্দিন, জানে আলম, নূর মোহাম্মাদ, হাজী সোলায়মান, আব্দুর রশিদ, আমির উদ্দিন, মো. ফারুক, জয়নাল আবেদীন, ফজলুর রহমান, হারান শাহা, সুখ রজন বাড়ই, আব্দুল মান্নান খলিফা, তাহের খান, নিজাম উদ্দিন বিহারী, আতাউর রহমান ও আব্দুল লতিফ। এদের সহযোগি হিসেবে শেখ মনিরুল ইসলাম (মনু শেখ), ছাত্তার মেম্বর ও এবিএম আজগরও ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাদির ছেলে আবুল হোসেন দেশমাতৃকার ডাকে মামা দাউদ আলী ও বাড়ির কাজের লোক আলী হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেন। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি মাকে দেখতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত ১০টায় তিনি মুক্তিযুদ্ধেও খবর জানার জন্য রেডিও শুনতে পার্শ্ববর্তী ইয়াসিনের বাড়িতে যান। এ খবর রাজাকাররা জানতে পেরে ওইদিন রাত ২টার দিকে পাক আর্মিদের নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে আবুল হোসেন, দাউদ আলী ও আলী হোসেনকে ধরে ভূতের বাড়ি আনছার ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
 
১৩ সেপ্টেম্বর আবুল হোসেনসহ ৩৬জনকে গল্লামারী ব্রিজের নিচে নিয়ে ১৫/২০জনকে গুলি করে এবং বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
বাদিপক্ষে মামলা দাখিলকারী অ্যাডভোকেট এ এম আহম্মেদ উল্লাহ বলেন, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্ত এবং বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আন্তর্জাতিক ক্রাইমস অ্যাক্ট) প্রেরণ করেছেন।
ইত্তেফাক/এএন