সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে অনেক বেশি মনোযোগী: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৭, ০২:২৮

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছার কারণে সদ্যসমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিয়ে উন্নয়ন বান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনে সক্ষম হয়েছেন।

 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে অনেক বেশি মনোযোগী। সরকারের মূলনীতি হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদের চেষ্টা চালাতে হবে এবং সকল ধরনের ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি স্বতঃস্ফুর্ত গণসমাবেশে এসব বলেন।
 
মন্ত্রী বলেন, মানুষের উন্নয়ন চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। গত ৩২ বছর জনগণের মাঝে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে, এক সময় দেশের প্রান্তিক জনগণের প্রত্যাশা ছিল খুবই সীমিত। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান পেলেই তারা সন্তুষ্ট থাকতেন। এখন তারা বিদ্যুত্ চান, স্লুইজ গেট চান, কৃষির উন্নয়ন চান। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন তৃণমূল মানুষের উন্নয়নের জন্য তাদের সাথে গভীরভাবে মিশতে হবে। তাদের সুখ-দুঃখকে অনুভব করে সহানুভূতির সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। এখন আর যমুনার ওপারে কৃষি উন্নয়নের জায়গা নেই। তাই আমাদের অঞ্চলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে কাজে লাগাতে হবে।
 
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে প্রকৃতির সাথে লড়াই নয় নদী ভাঙ্গনসহ অনিবার্য প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপখাওয়ায়ে অভিযোজন প্রক্রিয়ায় জীবন ধারণ করতে শিখতে হবে।  ১৭ বছর ধরে একাধিক সরকারের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস অতীতের চেয়ে বর্তমানে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা অনেক গভীর ও কার্যকর। এখন আর আগেরমত চলার পথে মানুষকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় না। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী মানুষের সংখ্যা এখন হাতে গোনা। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নতুন বই নিয়ে দলে দলে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য মনকে প্রফুল্ল করে।
 
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষ সরাসরি বিদ্যুত্ পেতে শুরু করেছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে ভান্ডারিয়ার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছবে এবং এক বছরের মধ্যে কাউখালীর সবাই বিদ্যুত্ পাবেন। সৌরবিদ্যুত্ দিয়ে দুর্গম এলাকায়ও আলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে উন্নয়নের স্বাদ পেতে হলে সকলের ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। আমাদের এই এলাকায় অন্য এলাকার চেয়ে পুলিশকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেক কম পরিশ্রম করতে হয়। এর কারণ এলাকার মানুষ এক হয়ে সম্মিলিতভাবে বসবাস করেন। এটা সম্ভব হয়েছে উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কখনো এলাকার মানুষের সামনে রাজনীতির কথা না বলায়। আমরা বলে আসছি নিজেদের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, ঝঞ্ঝাট, বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে আল্লাহ যেমন খুশি থাকেন, তেমনি যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকেন তাদেরও ঐ এলাকাবাসীর প্রতি সুনজর থাকে। আর রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের সুনজর মানুষের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক হয়।
 
তিনি বলেন, আমরা সব সময় এলাকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে উন্নয়ন বরাদ্দ প্রদান করে এসেছি। যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারে অবস্থান করার তৌফিক আল্লাহতালা আমাদের বারবার দিয়েছেন, সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মানুষের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে সকল সরকারের সময় আমরা মেধা, শ্রম, আন্তরিকতা দিয়ে এ কাজটি সম্পন্ন করেছি।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এলাকাবাসী যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে সদ্যসমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন আমাদের অঞ্চলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
 
নানা ধরনের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে তৃণমূলের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা দৃঢ়তার সাথে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার পরিবেশ নিশ্চিত করায় মন্ত্রী প্রশাসন, পুলিশ ও ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা কখনো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করি না, সম্পদ ও বরাদ্দ বিলি-বণ্টনের ক্ষেত্রে হুকুম জারি করি না। কারণ আমরাই দেশে উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ গঠন করেছি এবং আমাদের সহায়তায় এ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে স্থানীয় সরকার পদ্ধতিকে স্থায়িত্বশীল করা।
 
ধাবরিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিকালে কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দ্বীপ গ্রাম ধাবরিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তিনি সুইচ টিপে বিদ্যুত্ সংযোগ ও আলো প্রজ্বালন করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনুর সভাপতিত্বে এখানে মন্ত্রী এক স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
 
এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী কাউখালী উপজেলা সদরে মুজিব চত্বরে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী ও সরকারি অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সমবেত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টনও এখানে বক্তৃতা করেন। দুপুরে মন্ত্রী কাউখালীতে নবনির্মিত গান্ডতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের উদ্বোধন করেন। এখানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন শেষে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে শরিক হন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মীর মনির হোসেন মিরাজ হোসেনের সভাপতিত্বে এখানে মন্ত্রী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
 
এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবনী চাকমা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিঠু, ভান্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু প্রমুখ।
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে দুস্থদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল ঢেউ টিন ও অর্থ বিতরণ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এ সব স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
 
এ সব বিতরণ অনুষ্ঠানে আমরাজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা চাঁদ, পারসাতুরিয়া চিড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন। দুস্থ কল্যাণ সংস্থার কম্বল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন সংগঠনের উপদেষ্টা এম এ রব্বানী ফিরোজ।
 
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে রাতে ভান্ডারিয়া পৌরসভা ও ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল, ঢেউটিন, নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া তার প্রতিষ্ঠিত দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
 
ভান্ডারিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরিদর্শন বাংলো এবং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সেনেরহাটে এ সব ত্রাণ বিতরণকালে আরো উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, জেপি’র উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, জেপি নেতা ও পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য ইউসুফ আলী আকন, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজা আহমেদ দুলাল প্রমুখ।
 
এ ছাড়া সকালে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাসভবনে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার ও রোকেয়া বেগম মন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ, পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, ভান্ডারিয়া জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর সভাপতি এহসাম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম কাইয়ুম জোমাদ্দারের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা মন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া অর্পণ করেন।

ইত্তেফাক/এএন