রাত জেগে দলবেঁধে কার্ড খেলা, ছাদে গিয়ে সুরে সুর মিলিয়ে গান গাওয়া কিংবা ফেইসবুকে চ্যাটিং-এর মাধ্যমে কখন যে সকাল হয়ে যায় টের পাওয়া যায় না। রাতের ঘুম সকালে পুষিয়ে নিতে অনেকেরই সকালের ক্লাসগুলো ঘুমের ঘোরেই কেটে যায়। তবে এমন বাউন্ডুলে জীবন সবার নয়। অনেকেই সকাল আটটার বাস ধরে ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা ল্যাবে উপস্থিত থাকতে অভ্যস্ত। ক্লাস কিংবা পরীক্ষা যে কোনো বিষয়েই সিরিয়াসনেস যেন একটু বেশিই। তবে এ দুইয়ের বাইরেও রয়েছে একটি দলছুট দল। নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি ঘোরাঘুরি, আনন্দ, আড্ডা আর হৈহুল্লোড় করে কাটে যাদের ক্যাম্পাস জীবন। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের হিসেব ভুলে যাদের আড্ডায় সরগরম হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানগুলো। আর সে আড্ডা যদি সাহিত্য বিষয়ক কোনো আড্ডা হয় তবে আনন্দের মাত্রাটা হয় একটু অন্যরকম।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সালের ১৪ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সাস্ট সাহিত্য সংসদ’ নামে একটি সাহিত্য বিষয়ক সংগঠনের। বই, সাহিত্য আর মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনে দূরদর্শী কাণ্ডারি তৈরি করা যাদের লক্ষ্য। ক্যাম্পাসের সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মাসেই সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে ‘সাস্ট সাহিত্য সংসদ’। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্যেরও নানা গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ কিংবা সাহিত্যিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রতি মাসেই এ আড্ডার আসর বসে। আর সে সব আড্ডায় উপস্থিত থাকেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা (রনি), উপন্যাসিক ও কবি ড. জফির সেতু, মাসুদ পারভেজসহ অনেকেই।
সাহিত্যের গভীরে বিচরণকারী এ সব ব্যক্তিদের উপস্থিতির ফলে আড্ডার প্রতি সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ একটু বেশি থাকে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিটি আড্ডা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টারে প্রতি মাসের শেষের দিকে সন্ধ্যায় বসে এ আড্ডার আসর। অনুসন্ধিত্সু শিক্ষার্থীরা জেনে নেন তাদের মনে উঁকি দেওয়া নানা অজানা প্রশ্নের উত্তর। সাহিত্য আড্ডা ছাড়াও প্রতিবছর বই মেলার আয়োজন করে থাকে এ সংগঠন। তরুণ কবি, সাহিত্যিকের প্রকাশিত নতুন বইয়ের পাশাপাশি পাঠকের মনের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য দেশ বিদেশের খ্যাতনামা লেখকদের বইয়েরও মজুদ থাকে বই মেলায়।
সাস্ট সাহিত্য সংসদের সভাপতি রাসেল আল মাসুদ বলেন, বই, সাহিত্য আর মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারে। মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা আর বই মেলার বাইরেও আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি যেগুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে সহায়তা করে। তার ধারাবাহিকতায় গত ১২ ডিসেম্বর আমরা আয়োজন করেছি ‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ: দুই প্রজন্মে ’৭১’ শীর্ষক আলোচনা সভার। এ সভায় ২৫ মার্চের প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেন। এ ছাড়াও ‘৩০ লাখ শহীদ বাহুল্য না বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আরিফ রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। রাসেল আল মাসুদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় উজ্জীবিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
ইত্তেফাক/আরএ
