যশোর কালেক্টরেট চত্বরে কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নামে নির্মিত দোকান অপসারণে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাত দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক আইনজীবীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
এছাড়া বেআইনিভাবে স্থাপনা নির্মাণে জেলা প্রশাসকের নিস্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন সচিব, ভূমিসচিব, যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনিয়ম বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
‘যশোর কালেক্টরেট চত্বরে অনুমোদন ছাড়াই দোকান’- শিরোনামে গত ২৫ ডিসেম্বর একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যশোর শহরে কালেক্টরেট চত্বরের পূর্বপাশে মুজিব সড়ক ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ভবন। সাতটি রুমবিশিষ্ট এ ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধে ১৫ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
যশোরের ৩৬ জন আইনজীবী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলার প্রথম জেলা যশোরের জিরো পয়েন্টে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত ৩৬০ দুয়ারি ইতিহাসখ্যাত কালেক্টরেট ভবন অবস্থিত। বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের ফলে ভবনটি ধ্বংসের সম্মুখীন। ভবনে রয়েছে জেলার প্রধান কোষাগার (ট্রেজারি)। যেখানে রয়েছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ। এ সম্পদ ও কালেক্টরেট ভবনকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ভবনের পাশে একটি পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ করা হয়।
গত ২০ ডিসেম্বর যশোরের আইনজীবী মাহাবুব আলম বাচ্চুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল হোসেন যশোরের জেলা প্রশাসককে লিগ্যাল নোটিশ দেন। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কাজ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
তবে নোটিশের প্রেক্ষিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি। তাই যশোর জেলা জজকোর্টের আইনজীবী মাহবুব আলম বাচ্চু এই রিটটি দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি হাইকোর্ট আজ অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএসএস
