ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৯
জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদের ছনকান্দা এলাকার বালি গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত। তাই দেশজুড়ে রয়েছে এখানকার বালুর ব্যাপক চাহিদা। নির্মাণ সামগ্রীতে ব্যবহার অত্যন্ত উপযোগী। এই নদের বালু সিলিকনযুক্ত হওয়ায় কাঁচ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার উপযোগী। তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছে বালু ক্রয়ের জন্য। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ফায়দা লুটছে। যেন দেখার কেউ নেই।
 
জামালপুর শহরের ব্র‏‏হ্মপুত্র নদের ফেরিঘাট থেকে শুরু করে পিয়ারপুর পর্যন্ত, এবং দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের জামালপুর সদর উপজেলার ফেরিঘাট, নাওভাঙ্গার চর, ছনকান্দা, চরযথার্থপুর, নান্দিনা, নুরুন্দি, পিয়ারপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এছাড়া ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থানে দিন রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বসে নেই যমুনা নদীর বালি উত্তোলন। যমুনার সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুরের উলিয়া ও গুঠাইল বাজারসহ সারা জেলায় প্রায় ৫৫টি পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের চলছে মহোৎসব।
 
এলাকার একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে হুমকিতে পড়ছে নদী রক্ষা বাঁধ, ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ, কালভার্টসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বছরে কোটি টাকার রাজস্ব। এ ব্যাপারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ২৩টি লাইসেন্স নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৬ খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বালু মহালগুলো স্থানীয় জেলা প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তী স্থানীয় জেলা প্রশাসন বালু মহালগুলো ইজারা দেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়। সে সময় পূর্বের লাইসেন্সধারী সিন্ডিকেট করে হাইকোর্টে মামলা করলে স্থানীয় প্রশাসনের ইজারার উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় এসব লাইসেন্স দেখিয়ে প্রায় একযুগ ধরে বালু মহালগুলো ভোগ করে যাচ্ছেন তারা। সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
 
জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বালু উত্তোলনের মেশিন জব্দ করে জরিমানা আদায় করেছি।’
 
তিনি আরো বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ