১০৪তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের একটি প্লেনারি সেশনে গত বুধবার (৪ জানুয়ারি) ভাষণ দিয়েছেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতিতে অবস্থিত শ্রী ভেংকটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিজ্ঞানী, ছাত্র ও অন্যান্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। এক ঘণ্টার বক্তৃতায় প্রফেসর ইউনূস শ্রোতাদের কাছে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ভারতে সামাজিক ব্যবসার সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে করেন।
সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এই নন-ডিভিডেন্ট ব্যবসার সুক্ষ্মতর দিকগুলো তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। ভারতের প্রতিভাবান তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের উদ্দেশে প্রফেসর ইউনূস তাঁদের চাকরি না খুঁজে বরং উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান। পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃস্বরণ চিরতরে বিলুপ্ত করতে অর্থাৎ তাঁর ‘তিন শূন্য’র রূপকল্প বাস্তবায়িত করতে সামাজিক ব্যবসায়ে নতুন নতুন ধারণা উদ্ভাবন করতে চ্যালেঞ্জ জানান।
এ সময় ইউনূস বলেন, কেবল লক্ষ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তাই পারে সম্পদের ক্রমাগত কেন্দ্রীকরণের এই ভয়ংকর প্রক্রিয়াটিকে ঘুরিয়ে দিতে। প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতা ও তরুণ বিজ্ঞানীরা তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি গবেষণাগুলো মূলত মুনাফা অনুসন্ধানী ব্যবসাগুলোর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরিচালিত। নতুন প্রজন্মের তরুণ প্রযুক্তিবিদরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোনিবেশ করেন, তাহলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের সাফল্যের সমস্যা যা এখনো অনতিক্রম্য বলে মনে হচ্ছে পুরোপুরি দূর করা যাবে। সেশনের শেষে শ্রোতারা দাঁড়িয়ে তুমুল করতালির মাধ্যমে প্রফেসর ইউনূসকে অভিনন্দন জানান।
১০৪তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রধান সভাপতি প্রফেসর নারাইন রাও এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বটি সঞ্চালন করেন। বৃহস্পতিবার ইউনূস সেন্টারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
