বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে মারামারি, আহত ১০

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:৪৭
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থিত দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রলীগের প্রায় ১০ জন কর্মী আহত হয়। গত বুধবার ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল রঞ্জিত  (কে.আর) মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.আর মার্কেটে বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি সমর্থিত শহীদ নাজমুল আহসান হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধর করে সাধারণ সম্পাদক সমর্থিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শেখ মারুফ (কৃষি), ইমতিয়াজ আবির (ভেটেরিনারি), দুর্বার (ভেটেরিনারি), কামরুলসহ (পশুপালন) প্রায় ২০-৩০ জন কর্মী। এতে শহীদ নাজমুল আহসান হলের মেহেদী (পশুপালন), সাব্বিরসহ (কৃষি)  ৫-৬ জন কর্মী আহত হয়। পরে শহীদ নাজমুল আহসান হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে এসে রামদা, লাঠি-সোটা নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নেতার্কীদের মারার জন্য বের হয়। এসময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নেতাকর্মীদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা হলে ফিরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করতে গেলে সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শহীদ শামসুল হক হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনায় বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। প্রক্টর চলে গেলে ওই হলের সামনে দু’গ্রুপের সিনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরে তারা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে আলোচনায় বসে।
 
এ বিষয়ে বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী ও সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, কর্মীদের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
 
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ নাজমুল আহসান হলে সাধারণ সম্পাদক সমর্থক সন্দেহে শুভ রায় (কৃষি) নামে এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে ওই হলের কর্মীরা। পেটানোর পর ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিত্সা নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। এমনকি ওই হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুর রহমানকে মোবাইলে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি  হলে আসতে অপারগতা প্রকাশ করে হলের গার্ডকে জানাতে বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় শুভকে রাত ১০ টার দিকে হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিত্সা দেওয়া হয়।
 
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.এ.কে.এম জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আলোচনা করে সুরাহা করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।