দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চল। নদীবেষ্টিত কাউখালীর সঙ্গে বাইরের জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। নৌ রুটেই পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি জাহাজ, কার্গো, লঞ্চসহ বিভিন্ন ধরনের নৌ যান ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মোংলা, ভারতে চলাচল করে আসছে। কিন্তু বিগত সময়ে এসব নৌ যান চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। মাঝে মধ্যে দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দিতে এ অঞ্চলে তেমন কোনো সক্ষম আবহাওয়া অফিস ছিল না। এ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে পিরোজপুরের কাউখালীতে অত্যাধুনিক নৌ-পূর্বাভাস কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এখন থেকে নৌ সতর্কবার্তার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হবে না। এ আবহাওয়া অফিসই ঘূর্ণিঝড়ের আগাম নৌ সতর্কতা দিতে পারবে। ওইসব নৌ যান অনেকটা ঝুঁকিমুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ২০০৮ সালে ১৩টি নৌ-পূর্বাভাস কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই একটি উপকূলীয় জনপদ পিরোজপুরের কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর তীরে লঞ্চঘাট সংলগ্ন পাইলট অফিস চত্বরে স্থাপন করা হয়। অফিস ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে পাচঁ বছর আগে। তবে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। শিগগিরই এ যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা।
অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক আবহাওয়াবিদ মজিদুল ইসলাম বলেন, নৌ-পূর্বাভাস কেন্দ্র ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে একজন আবহাওয়া সহকারী, একজন উচ্চ পর্যবেক্ষক ও দুইজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদায়ন দেওয়া হয়েছে। আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।আগামী মাসে যন্ত্রপাতি এসে যাবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
