পরিবহন ধর্মঘটে অচল বড়লেখার জনজীবন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:১৪

জেলার শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের জেরে জেলায় ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে বড়লেখা উপজেলার জনজীবন। গত শুক্রবার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরিবহন ধর্মঘট পালন শেষে বিকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গতকাল শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌথভাবে জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন সকল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 
ধর্মঘটের ফলে গতকাল সকাল ছয়টা থেকে বড়লেখা উপজেলায় বাস-মিনিবাস, ট্রাক-সিএনজি চালিত অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে বড়লেখা উপজেলার জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।
 
সরেজমিনে সকাল আটটা থেকে দুপুর ২টা ৩০ পর্যন্ত উপজেলার পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী, উত্তরবাজার, মধ্যবাজার, দক্ষিণবাজার, পাখিয়ালা চৌমুহনী, কাঁঠালতলী, রতুলী, দক্ষিণভাগ, সুজানগর, দাসেরবাজার, চান্দগ্রামবাজার ঘুরে পরিবহন শ্রমিকদের রাস্তা অবরোধ ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
 
বিকাল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তবে অবরোধ চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা-সিলেটের আঞ্চলিক সড়ক ছাড়াও গ্রামের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও জরুরি কাজে গন্তব্যস্থানে যাওয়ার জন্য বের হয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই।
 
এ দিকে নিজেদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ট্রাক-ট্যাংক-লরি-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান খলকু ও উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন। বড়লেখা থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর জানান, অবরোধ চলাকালে বড়লেখার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডে গাড়ি রাখা নিয়ে এক বিজিবির সদস্যের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ খবর বিজিবির শ্রীমঙ্গল সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে মারধর করেন। পরে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রায় ১০০ গাড়ি ও ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আটজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়।

ইত্তেফাক/এএন