আজও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধা ছত্তার ও মালেক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০১:২১

পাক সেনাদের সঙ্গে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে লাল সবুজের বিজয় পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন গৌরনদীর মুক্তিযোদ্ধা ছত্তার হাওলাদার ও আব্দুল মালেক ফকির। কিন্তু সকল প্রকার সনদপত্র থাকা সত্ত্বেও দেশ স্বাধীনের দীর্ঘদিন পরেও তারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ছত্তার হাওলাদার ও আব্দুল মালেক ফকির জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে মারা গেলেও তাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। 

 
নববধূকে ঘরে রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন উপজেলার শিংগা গ্রামের হামিজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে আব্দুল মালেক ফকির। ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ৯নং সেক্টরের বেইজ কমান্ডার ও বর্তমান উজিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াদুদ সরদারের নেতৃত্বে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
 
মালেক ফকিরের স্ত্রী রাহেলা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশকে শত্রুমুক্ত করার পর বাড়িতে আসার শর্ত দিয়ে স্বামীকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতে পাঠিয়েছিলাম। তিনি কথাও রেখেছেন। দেশ স্বাধীনের পর আতাউল গণি ওসমানীর সনদ, প্রশিক্ষণ সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সনদ নিয়ে আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হতে বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়ে সবখানেই নিরাস হয়েছেন। এক পর্যায়ে চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে ১৯৯৯ সালে তিনি মারা যান। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও ওই সময় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে আমি বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আবেদন করার পর তিনি অনলাইনে আবেদন করার জন্য লিখিত সুপারিশ করেন। সে মতে আবেদন করা সত্ত্বেও আমার স্বামীকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
 
অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন আব্দুস ছত্তার হাওলাদার। ২০১১ সালে এ বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। গৌরনদী উপজেলার জঙ্গলপট্টি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সকল প্রকার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডারের দাবি করা মোটা অংকের টাকা দিতে না পারায় তার স্বামীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আরো জানান, তার মৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর নাম গেজেটভুক্ত করার জন্য তিনি অনলাইনে আবেদনসহ দীর্ঘদিন থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাননি।
 
৯নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট ছিন্টু জানান, ছত্তার হাওলাদার ও মালেক ফকিরের মতো অসংখ্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের ব্যর্থতার কারণে আজও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। অথচ অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। তিনি উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ইত্তেফাক/এএন