জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৩৬
গেল বছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাড়ে ৭ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছরের তুলনায় তা ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমা ও অবৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের কারণে গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে। 
 
রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
 
তবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি আশাব্যঞ্জক হচ্ছে না। বিশেষ করে সিন্ডিকেট তত্পরতা কারণে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ আটকে থাকা ও সৌদি আরবের কর্মী প্রেরণে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও মন্ত্রী বরাবরের মতোই জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। 
 
২০১৬ সালের অর্জন তুলে ধরতে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ হতে মোট ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ জন। এছাড়া নারী অভিবাসনের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে সর্বাধিক ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন নারী কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে বিদেশে। তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। 
 
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরি ও প্রেরণে সরকার বেশি জোর দিচ্ছে। গত বছরের ২০১৫ সালের তুলনায় গত বছর ৪৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি দক্ষ কর্মী বিদেশে গেছেন। এছাড়া প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন ও বহুমুখী কল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৭’ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
 
এ সময় সাংবাদিকরা অভিবাসন খরচ না কমার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী এবং সচিব কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য সরকার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে আট লাখ টাকা পর্যন্ত লাগছে। 
 
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি আটকে আছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এমন কোনো চক্রের কথা আমার জানা নেই। মালয়েশিয়ার বিষয়টি নাজুক। আমাদের কাছে চাহিদাপত্র আসলে কর্মী প্রেরণ করবো। 
 
এক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত খরচে কোন রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদিতে কর্মী পাঠাচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী কোনো উত্তর না দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে বের হয়ে যান।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক, বিএমইটি’র মহাপরিচালক সেলিম রেজা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, বোয়েসেল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরণ কুমার চক্রবর্তীসহ মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই