চাকরি স্থায়ীকরণের দাবীতে শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন।
গত রবিবার দুপুর থেকে খনির ভূ-গর্ভে ২৮৫ জন, খনির উপরে ৪'শ জনসহ মোট ১ হাজার ৪১ জন শ্রমিক নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। টানা তিন দিন ধরে ভূ-গর্ভের ১২০০ থেকে ১৮০০ ফুট নীচে তীব্র তাপমাত্রা ও দূষিত বায়ুর মধ্যে অবস্থানকারী ২৮৫ জন শ্রমিকের জীবন ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবী করেছেন শ্রমিক নেতারা। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ৮ জনকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হচ্ছে-আব্দুল কাদের (৩৫), আমজাদ হোসেন (৩৮), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), তহসীন আলী (৩০), মোশাররফ হোসেন (৩৮), সাইদার আলম (৩৫), ফেরদৌস (২৮) ও মামুনুর রশিদ (৩৭)।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক সোহাগ জানান, ভূ-অভ্যন্তরে অবস্থানরত শ্রমিকরা তাদের জানিয়েছে, তাদের প্রাণের দাবি চাকরি স্থায়ীকরণ করা না হলে প্রয়োজনের তারা ভূ-অভ্যন্তরেই আত্মাহুতি দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, খনির সূচনা লগ্ন থেকে এই খনিতে দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করছেন ১ হাজার ৪১ জন শ্রমিক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খনির গভীর থেকে কয়লা উত্তোলন করতে হয় তাদের। মাত্র ৩০০ টাকা হাজিরা দরে কাজ করে তাদের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সে কারণে তারা চাকুরী স্থায়ী করনের দাবীতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের দাবীর প্রতি কোন সাড়া না দেয়ায় তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব-এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পেট্রোবাংলা থেকে তাকে বলে দেয়া হয়েছে সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা না বলতে। তবে তিনি জানান, সংকট নিরসনে শ্রমিকদের সাথে প্রশাসনের মাধ্যমে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই এই শ্রমিকদের সাথে ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে দেশের স্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা আবার কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এসএস
