আতঙ্কের নাম ঘাস ও বাতাস

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ১২:২৮
 
ছবি দেখে মাঠের ভেতর উইকেট কোনটা, অনুমান করা কঠিন। মাঝে মাঝে শুধু কিছু দাগ দেখে বুঝতে হয়, ওখানে উইকেট হলেও হতে পারে। খোদ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও নাকি বলেছেন, তিনি কাছে গিয়েও বুঝতে পারেননি, উইকেট কোথায়। এতোটাই সবুজ আছে এখনও বেসিন রিজার্ভের উইকেট।
 
যদিও এই দুই দিন কিছু ঘাস কাটা হবে। আগামীকাল খেলা শুরুর আগে হয়তো অনেকটাই বেরিয়ে আসবে উইকেট। তারপরও যা থাকবে, বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ ব্যাপার। বেসিন রিজার্ভে টেস্ট ম্যাচে উইকেট সবুজাভ রাখা হয় প্রায়ই। পরের দিকে আবার ব্যাটিংয়ের জন্য তা ভালো হতে থাকে ক্রমে।
 
ঘাস তো থাকবেই, রস টেলর সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দিলেন বাউন্সের কথাও। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাউন্সের উইকেটগুলোর মধ্যে এখন অন্যতম এটি।
 
এসবের সঙ্গে আছে বাতাস। সফরের শুরু থেকেই যেটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে আছে বিভীষিকা। বোলার-ব্যাটসম্যানদের কেউই এখনও পুরোপুরি পারছেন না বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আর বাতাস সবচেয়ে তীব্র থাকে এই বেসিন রিজার্ভেই। এই বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে কাজে লাগানো যায় দারুণভাবে। কিউই পেসাররা সেটি খুব ভালো পারেন। বাংলাদেশ হয়ত বুঝে উঠতে উঠতেই টেস্ট শেষ!
 
টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তাসকিন আহমেদ অবশ্য দারুণ রোমাঞ্চিত উইকেট দেখে, ‘উইকেট দেখে আমাদের বোলাররা খুশি। বেশ সবুজাভ ও শক্ত উইকেট। আমিও মুখিয়ে আছি এখানে বোলিংয়ের জন্য। আশা করি, আমরা এখানে বোলিং উপভোগ করব। আমাদের দলে বেশ কয়েকজন ভালো বোলার আছে। আমাদের বিশ্বাস, এই বোলিং-শক্তি নিয়ে আমরা ভালো কিছুই করব। আমরা যে সেটি পারি, তা আগেও প্রমাণ করেছি।’
 
তাসকিন বললেন মুদ্রার এক পিঠের কথা। অন্য পিঠেই আছে ব্যাটসম্যানরা। তাদের রোমাঞ্চ হারিয়ে যাওয়ার কথা শঙ্কায়। টেকনিক আর সাহস দিয়ে যদি জয় করা যায় শঙ্কা, তাহলেই কেবল হতে পারে ভালো কিছু।
 
ব্যাটসম্যানদের দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজ করা তাসকিনের কাজ নয়। অভিষেক হতে যাওয়া এই ফাস্ট বোলার বলছিলেন, এমন উইকেটে তার চ্যালেঞ্জ হবে মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ রাখা, ‘টেস্টের উইকেটে হয়ত আরও বেশি মুভমেন্ট থাকবে। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা পেস বোলিং ভালো খেলে, সবসময় খেলে অভ্যস্ত। ওদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল করতে হবে। ফাস্ট বোলার হিসেবে আগ্রাসী তো থাকতেই হবে, তবে লাইন-লেংথ ও সুইংয়ে মনোযোগী হতে হবে। কারণ বেশি আগ্রাসী হয়ে এদিক-সেদিক বোলিং করলে ওদের সঙ্গে লাভ হবে না।’
 
বাংলাদেশের আরেকটা দুশ্চিন্তা হবে অভিজ্ঞতার অভাব। রুবেল হোসেনের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পেসারদের এবার অভিজ্ঞতার পাল্লাটা একটু ভারী। ২৩টি টেস্ট খেলেছেন এই পেসার। দুটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে আরেক পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তাসকিন ও শুভাশীষ রায়ের ভাণ্ডার স্বাভাবিকভাবেই শূন্য।
 
নিউজিল্যান্ডে কেবল একটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে রুবেলের। ২০১০ সালের সফরে হ্যামিল্টনে ১২১ রানে হারা সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৯ ওভারে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন এই পেসার, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
 
নিউজিল্যান্ড দলে থাকা চার পেসারের মধ্যে সবচেয়ে কম সাতটি টেস্ট খেলেছেন ম্যাট হেনরি। বাকি সবার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চার জনের মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। নিল ওয়াগনার ২৭টি, ট্রেন্ট বোল্ট ৪৭টি আর টিম সাউদি ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন।
 
দুই দলের পেসারদের মধ্যে অভিজ্ঞতার ঘাটতি অনেক। কিন্তু কোর্টনি ওয়ালশের মতো কোচ দলে থাকায় এই ক্ষেত্রে খুব একটা ভুগতে হবে না বলে মনে করছেন তাসকিন আহমেদ, ‘ওদের পেসার যারা আছে, সাউদি-বোল্ট-ওয়াগনার অনেক টেস্ট খেলেছে। ওরা অনেক সফল বোলার। তবে এক সময়ে ওরাও আমাদের মতো ছিল। আশা করি, এক সময়ে আমরাও ওদের মতো হয়ে যাব।’