সাদুল্লাপুরের চার নেতা কোথায়

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৭

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের চার নেতা গত ২/৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কীভাবে নিখোঁজ হলেন, কোথায় আছেন কিংবা তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে কিছুই স্পষ্ট করে জানা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে তারা এ ধরনের কাউকে আটক করেনি।

 
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডল, দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্স এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলা।
 
মনোয়ারুল হাসান জীমের নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রী লাভলী বেগম গতকাল বুধবার দুপুরে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রিন্সের স্বজনরাও গতকাল দুপুরে সাদুল্লাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
 
দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে            না কাটতে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় চার রাজনৈতিক নেতা নিখোঁজ হলো। বিভিন্নস্থানে তাদের খোঁজ করে হদিস না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও দলীয় লোকজন চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
 
এ দিকে, নিখোঁজ চারজনের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছে না জেলা পুলিশ ও র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, এমন পরিচয়ের কাউকে তারা আটক করেনি এবং এ বিষয়ে তারা কিছু জানে না।
 
মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডলের বাবা গোলাম মোস্তফা ডিপটি মন্ডল বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীম সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের কৃষিব্যাংক মোড় থেকে তার মোটর সাইকেলযোগে নলডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে লালবাজার এলাকা থেকে সে সাদেকুল ইসলাম সাদেককে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। এরপর থেকে তারা দুইজন নিখোঁজ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
 
তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অথবা বিশেষ মহলের ইন্ধনে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় ক্যাডাররা তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তাদের দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া জীমের মোটরসাইকেলটিও পাওয়া যাচ্ছে না।
 
মাইদুল ইসলাম প্রিন্সের ভাই নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকা থেকে প্রিন্সকে তার মোটরসাইকেলসহ তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। র্যাব, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারাও এ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না বলে জানিয়েছে।
 
শফিউল ইসলাম শাপলার বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নলডাঙ্গার কাচারী বাজার এলাকায় সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আইডি কার্ড দেখিয়ে নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। পরে তারা শাপলাকে নিয়ে চলে যান।
 
সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লব জানান, পথিমধ্যে হঠাত্ উধাও কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা যাই হোক না কেন ঘটনাটি উদ্বেগের। এ নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা সব জায়গায় খোঁজ-খবর অব্যাহত রেখেছেন। আশা করা হচ্ছে দ্রুত তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
 
সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, ওই চার রাজনীতিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাদের কে বা কারা নিয়ে গেছে।
 
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। পুলিশের কোনো শাখা তাদের আটক কিংবা তুলে নিয়ে যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পুলিশ খোঁজ-খবর ও তদন্ত করে দেখছে।

ইত্তেফাক/এএন