উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের (সালামাতপুর) রউফনগর সড়কটির তিনটি জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে কামারখালী ইউনিয়নের ওই সড়কের গন্ধখালী, ফুলবাড়ীয়া ও রাজধরপুর গ্রামে মধুমতি নদীর তীর সংলগ্ন দুই কিলোমিটার জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে দশটি বসতবাড়ি। এছাড়া কামারখালী-রউফনগর সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার একমাত্র পথ। যার ফলে ওই এলাকার জনসাধারণ পায়ে হেঁটে এবং ভ্যানে করে যাতায়াত করছেন। তাছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের একমাত্র রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে কোনো দর্শনার্থী স্মৃতি জাদুঘরটি পরিদর্শনে যেতে পারছেন না, ফলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নতুন প্রজন্মরা।
মধুমতি নদীর ভাঙনের ফলে ওই এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয়, দয়ারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গন্ধখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এলাকার যোগাযোগের রাস্তা ভাঙনের শিকার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে এবং কোনো অংশে ভ্যানে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুত্ফুন নাহার জানান, গত ডিসেম্বর মাসের জেলা সমন্বয় কমিটিতে জাদুঘরের রাস্তাটির অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। এই রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রজেক্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে অনুমোদন নিয়েছেন বলে জানান এবং গত শনিবার ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর আওতায় ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার প্রাক্কলন জমা দিয়েছি। বর্তমানে ফাইলটি অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলা পরিষদ গত ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে এক একর জমির ওপর ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণ করেন।
ইত্তেফাক/এএন