খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হাতিরখেদায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার ও অপহরণের ঘটনায় জড়িত চার ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অপহরণকারীদের ডেরা থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
বুধবার গভীর রাতে রামগড়স্থ ৪৩ ব্যাটালিয়নের বিজিবি এ অভিযান পরিচালনা করে। বৃহষ্পতিবার আটক চার অপহরণকারীকে রামগড় থানায় সোপর্দ ও এ ব্যাপারে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
জানা গেছে, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বৃহষ্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে মো. হাসান নামে এক ব্যক্তি এখলাস মিয়া (৩০) ও হোসাইন আহমেদ আনোয়ারকে (২৮) বেড়ানোর কথা বলে রামগড়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হাতিরখেদায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে হাত-পা বেেঁধ দুজনকে বেদম মারপিট করে ৪৪ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। এ সময় অপহূতদের কাছে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ারকে আটকে রেখে এখলাসকে ছেড়ে দেয়া হয় মুক্তিপণের টাকা আনার জন্য। ছাড়া পেয়ে তিনি রামগড়ের মহামুনি ক্যাম্পে এসে ঘটনাটি জানালে নায়েক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল বৃহষ্পতিবার রাত দেড়টার দিকে হাতিরখেদায় অভিযানে যায়। বিজিবি দুর্গম ঐ পাহাড়ি এলাকায় অপহরণকারীদের ডেরায় হানা দিয়ে অপহূত আনোয়ারকে উদ্ধার করে। এ সময় চার অপহরণকারী মো. হাসান, শহিদুল ইসলাম, কালামিয়া ও ওমর ফারুককে আটক করা হয়। ডেরা তল্লাশি করে পাইপগানের আদলে তৈরী একটি দেশীয় অস্ত্র ও কিরিচের মতো লম্বা দুটি ধারালো দা উদ্ধার করে বিজিবি।
অপহূত এখলাসের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা ও আনোয়ারের বাড়ি মৌলভিবাজারের রাজনগরে। তারা হাই ম্যাক্স ইউনানি নামে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলে জানান। অপহরণকারী হাসানও ঐ কোম্পানিতে কাজ করতেন। সেই সুবাদে ওর সাথে তাদের পরিচয় হয় বলে জানান এখলাস।
রামগড় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার জানান, অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত আটক চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আজ থানায় অস্ত্র আইন ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পৃথক পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।
