রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাইয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:১৯
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি’র বিশেষ দূত চিও তিনের সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। মিয়ানমারের দূত প্রস্তাবটি তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করার আশ্বাস দিয়েছেন। 
 
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে সু চি’র দূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
 
এদিকে, নিরাপত্তা সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে সীমান্ত যোগাযোগ কার্যালয় স্থাপনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে রাজি হয়েছে।  
 
মিয়ানমার সরকারের দূতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একসঙ্গে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও টেকসই জীবন ব্যবস্থার জন্য আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। আমরা স্পষ্টতই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে যাচ্ছি। বিশেষ দূতের সফর দুই দেশের মধ্যকার জটিল বিষয়ে আলোচনার পথ সুগম করে দেবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। 
 
তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাখাইন রাজ্যে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়, যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকরা পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তাসহ দ্রুত নিজ আবাসে ফিরে যেতে পারেন। একইসঙ্গে রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গণহারে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের কারণ অনুসন্ধান ও মূল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মিয়ারমানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে একই সমস্যা বারবার না হয়।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে ৬৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া তিন লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই