বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং বিরোধীদের ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ‘বৈশ্বিক প্রতিবেদন-২০১৭’ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ব্লগার, শিক্ষাবিদ, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেদনের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে বলা হয়েছে, গত বছরে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর সরকারি দমন-পীড়ন জোরালো হয়েছে। দুটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো বিশেষ করে যারা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করে তাদের প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি এসব সংস্থার তহবিল পর্যন্ত আটকে দেওয়া হচ্ছে। গত অক্টোবরে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য বিশেষ আইন পাস করা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্য এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। যাদের অনেকেই এখন কারাগারে নয়তো নিখোঁজ।
এইচআরডব্লিউ’র এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ভিন্নমত, গণমাধ্যম ও এনজিওগুলোকে দমনের সুশীল সমাজ ও বিরোধী দলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও বিরোধ দল এখন টার্গেট এবং তারা কথা বলতেও ভয় পায়। শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএম।
