বিইআরসিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৭, ১১:৩৪
 
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। পছন্দের প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করতে নম্বর কারচুপি করা হয়েছে। পছন্দের ৯ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় সবচেয়ে কম নম্বর পাওয়ায় তাদের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি খোদ কমিশনেরই এক তদন্তে এ চিত্র উঠে এসেছে।  তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি পরীক্ষাটি বাতিলও করা হয়েছে।
 
বিইআরসি সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে ৯ জন কর্মী নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় কমিশন। যাচাই-বাছাই কমিটি ২৬৯টি আবেদন পত্র বাছাই করে। গত বছরের ২৯ জুলাই লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৪ দিনের মধ্যে ২৬ ও ২৭ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ মৌখিক পরীক্ষাতেই কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে।
 
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ রফিকুল আলম ভূইয়া স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি গত ২৭ অক্টোবর জমা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর নভেম্বরে নিয়োগটি বাতিল করা হয়েছে। অথচ এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশনের কয়েক লাখ টাকা খরচ হয় বলে জানা গেছে।
 
তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১০০ পূর্ণমানের পরীক্ষার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়। নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোন পদে নিয়োগে ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় পাশের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ পরীক্ষায়  মৌখিকের জন্য ৩০ নম্বরের বিপরীতে পাস নম্বর ২০ নির্ধারণ করা হলেও লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল না।
 
আগস্টে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে অবসরে যান তত্কালীন বিইআরসি’র চেয়ারম্যান ড. এ আর খান। পরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন কমিশনের সদস্য মো. মাকসুদুল হক। তড়িঘড়ি করে এ জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে হয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কমিশন। কমিটি সংশ্লিষ্ট পদের বিপরীতে প্রার্থীদের সকল নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অফিস সহায়ক পদের নিয়োগে অনিয়ম খুঁজে পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, ন্যায়নিষ্ঠতা এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
 
কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মৌখিক পরীক্ষা শেষে যেসব প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয় তাদের নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের সকলেই লিখিত পরীক্ষায় সর্বনিম্ন নম্বর পেয়েছেন। তবে মৌখিক পরীক্ষায় তাদের নির্ধারিত পূর্ণমান ৩০ নম্বরকে ৭০ নম্বর ধরে প্রায় পুরো নম্বর দিয়ে তাদের যোগ্য দেখানো হয়েছে।  অফিস সহায়ক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪জন, নারী কোটায় ২জন, উপজাতি কোটায় ১জন, আনসার ও ভিডিপি কোটায় ১ জন এবং জেলা কোটায় ১জনসহ মোট ৯জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে নিয়োগ কমিটি। 
 
এই পদে জেলা কোটায় যে দুইজনকে সুপারিশ করা হয়েছে তাদের একজন লিখিত ৭০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ২০ নম্বর এবং অপরজন পেয়েছেন ৩৭ নম্বর। তবে মৌখিক পরীক্ষায় তাদেরকে ৩০ নম্বরের মধ্যে ৬৫ নম্বর করে দেয়া হয়েছে। অথচ জেলা কোটায় যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন লিখিত পরীক্ষায় যথাক্রম ৬৬, ৬১, ৫৩ নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যে ৪ প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে তাদের লিখিত পরীক্ষার নম্বরও যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তাদের নম্বরের চেয়ে কম।
 
এ বিষয়ে বিইআরসি’র সচিব মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বাতিলের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু প্রশাসনিক সমস্যার কারণে বাতিল করা হয়েছে। সেটি এখনই বলা যাবে না।