লড়াই চালিয়ে যেতে চান ইমরুল

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ২১:১৫

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

দর্শক-সমর্থকরা ব্যাপারটাকে ‘মধুর সমস্যা’ বলে তৃপ্তি পান।

বাংলাদেশের কয়েকজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এক সঙ্গে ভালো করলে সেটিকে এই বিশেষণ দেওয়া হয়। কিন্তু এই ‘মধুর সমস্যা’র শিকার হতে হয় সবসময় ইমরুল কায়েসকেই। ভালো ফর্মে থাকলেও তাকেই শেষ পর্যন্ত জায়গাটা ছেড়ে দিতে হয়। অন্যরা যখন নিশ্চিন্তে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করেন, তখন এই ইমরুলকে বার বার পরীক্ষা দিতে হয়।

আরও একবার সেই পরীক্ষাটা দিলেন। আবাহনীর দারুণ বোলিংয়ের বিপক্ষে করলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। তারপরও ইমরুলের ইংল্যান্ডের ভিসা নিশ্চিত নয়। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের যে দল পত্র-পত্রিকায় অনুমান হিসেবে এসেছে, সেখানে নেই এই ওপেনারের নাম। তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ভেবে হতাশ হতে চান না ইমরুল। তিনি বরং বিশ্বকাপকে সময়ের ও নির্বাচকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে রেখেছেন। নিজে বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা না করে এখন যা খেলছেন, সেই ক্রিকেট নিয়েই ভাবতে চান।

এখনও খুব একটা অতীত হয়নি। গত বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে ৩ শতাধিক রান করেছিলেন ইমরুল। যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি নব্বই পার করা ইনিংস ছিল। ওই সিরিজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পার না হতেই আবার জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। ছিলেন না সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও। এরপর শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই তিনি। এ অবস্থায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিশেষ কিছু করার বিকল্প ছিল না তার।

ইমরুল নিজেও স্বীকার করলেন, এরকম একটা ইনিংস তার দরকার ছিল। তবে সেটি ক্লাবের জন্যই দরকার বলে বলছিলেন, ‘আমি ব্যাটিং ভালোই করছিলাম। শুরু পাচ্ছিলাম। কিন্তু লিগে বড় ইনিংস হচ্ছিলো না। দলের জন্যই দরকার ছিল। যদিও আজ (গতকাল) জয় পাইনি। কিন্তু ইনিংসটা খেলতে পেরে ভালো লেগেছে। শুরু থেকে যেমন চাচ্ছিলাম, সেরকম খেলতে পেরেছি।’

তবে এই ইনিংস তাকে বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে দেবে কি-না, সে নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। ইমরুল নিজেও শুনেছেন, তিনি নাকি বিশ্বকাপ দলে থাকছেন না। এ অবস্থায় বিশ্বকাপ দল নিয়ে ভেবে মাথাটাকে জটিলতায় ফেলতে চান না, ‘আমাকে বন্ধুরা বলেছে, তুই নাকি থাকছিস না দলে। দেখেন, আমি খোঁজ নেইনি। নির্বাচকরা আমাকে ইংল্যান্ডে খেলার যোগ্য মনে করলে নেবেন; নইলে নেবেন না। আমি এ নিয়ে ভাবতে চাই না। আমি নিজের মতো খেলতে চাই। এখন ক্লাব ক্রিকেট খেলছি। ক্লাবের জন্যই সর্বোচ্চটা দিতে চাই। তারপর জাতীয় দলে কখনো এলে সেখানেও সর্বোচ্চটা দেবো।’

এখানেই ইমরুলের ভাগ্যটা খারাপ। ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন। প্রথম ৭ বছরে যাতায়াতের মধ্যে থাকা ইমরুল খুব একটা ভালো করতে পারেননি। তবে ২০১৫ সাল থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, দারুণ খেলেছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে সর্বশেষ ম্যাচ অবদি ২২ ম্যাচে ১০৩৫ রান করেছেন ৪৯.২৮ গড়ে। নিঃসন্দেহে গত বছর তিনেকে দলের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। কিন্তু এই পরিসংখ্যান তাকে দলে স্থায়ী করতে পারেনি।

ইমরুল মনে করেন না এখন আর তার পরীক্ষা দিয়ে ফেরার সময় আছে। তারপরও তিনি লড়াইটা করে যেতে চান। লড়াইয়ের একমাত্র কারণ ভালোবাসা, ‘আসলে এতোদিন জাতীয় দলে খেলার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষা দেওয়ার তো কিছু নেই। আর আমি তো রান করছিলামই। তারপরও আমি হতাশ হতে চাই না। আমি সংগ্রাম করে যেতে চাই। কারণ, বাংলাদেশের জার্সিটাকে আমি অসম্ভব ভালোবাসি। এই ভালোবাসা আছে বলেই আমি আশাটা ছাড়িনি। এখনও সেই আশাতেই লড়াই করে যাচ্ছি।’