দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যের সব উপকরণ যেন এক চৌহদ্দির মাঝে এসে ঠাঁই নিয়েছে। কিংবা এভাবেও বলা যেতে পারে আমাদের জাতিগত পরিচয়কে বুকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে যেসব গান বা লোকজ উপাদান সেসব ছোট্ট ছোট্ট বিষয় এসে জড়ো হয়েছে সোনারগাঁওয়ের লোকশিল্প জাদুঘর সংলগ্ন চত্বরে। শুরু হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সব।
এখানে বাংলার লোক গানের আসর যেমন বসেছে তেমনি রয়েছে কারুশিল্পীদের শিল্পকর্ম। সব মিলিয়ে বাংলার আত্মপরিচয়ের সন্ধান মিলবে এই মেলায় এলে। পরিচয় মিলবে হাজার বছরের বাঙালির যে ইতিহাস তার ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক বিবর্তনের। গতকাল শনিবার উদ্বোধনের দিনেই মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এই মেলার আয়োজন করেছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এ মেলা। চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পীদের পণ্য বিক্রির জন্য ১৯৩টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলার পাশাপাশি লোকজ মঞ্চে প্রতিদিন বাউলগান, কবিগান, পালাগান, জারি-সারি ও ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া গান এবং লোক জীবন প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। মেলা চত্বরে খেলার মাঠে বিভিন্ন ধরনের হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলার প্রদর্শনীও চলবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৪ জন কারুশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের শিল্পকর্ম তৈরি, প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য। এদের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ ও মাগুরার শেলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ী, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের কাঠের পুতুল, কাঠের কারুশিল্প ও নকশী কাঁথা, সিলেটের শীতল পাটি, ধামরাইয়ের তামা কাঁসা ও পিতলের কারুশিল্প, বান্দরবান ও রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য ও টাঙ্গাইলের বাঁশের কারুশিল্প।
সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইয়ে নামার আহবান সংস্কৃতি মন্ত্রীর: শনিবার এই লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উত্সবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ কিন্তু শেকড় গড়তে শুরু করেছে, এ থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন মানবিক শিক্ষা। রাজনৈতিক লড়াইতো আমরা করছি, আমাদের প্রকৃত লড়াই সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই। কারণ বর্তমানে সংস্কৃতিকে বাণিজ্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি জানান, অচিরেই সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। তাছাড়া পানাম নগরীর ৫২টি ঐতিহাসিক ভবন সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া প্রমুখ।
সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিবৃন্দ। এতে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, আইনাল হক বাউল, আনিসা প্রমুখ।
