রকস্টার হাসান। এদেশে ব্যান্ড মিউজিকের জনপ্রিয়তার মাত্রা এক অনন্য উচ্চতায় যে ক’জন রক লিজেন্ড নিয়ে গেছেন গান দিয়ে তাদের ভেতরে তিনি অন্যতম। নিজের আগামী অ্যালবাম, আইয়ুব বাচ্চু’র সাথে তার অনবদ্য স্মৃতি। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বললেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সবচেয়ে জোরালো গুঞ্জন হলো আপনি নাকি খুব জটিল রোগে ভুগছেন এবং সেটি নাকি আপনার কণ্ঠনালীতে। আপনি নাকি আর কোনোদিন গান গাইতে পারবেন না!
কী ভয়াবহ ব্যাপার। অথচ আমি গত সপ্তাহেও শো করে এলাম। আমার কানেও এসেছে এসব বিষয়। পাত্তা দিই না কখনো। এগুলো পাত্তা দিলে কাজ করবো কখন, বলুন। তবে এ রকম একটি রিউমার গ্রুপ সবসময় মিডিয়ায় সক্রিয় ছিল। আমাদের ভেতরকার অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্যও এরাই দায়ী।
এখন বলুন, আপনার বিরুদ্ধে যে কমন অভিযোগ রয়েছে। নতুন কোনো গান পাচ্ছি না কেন?
এই অভিযোগকে আমি স্বীকার করি। তবে নতুন বছরে বিশাল ধামাকা দেবো বলেই আর এখনই কিছু বলছি না।
সবাই যখন একটি দুটি শো করলেও সেলফিময় করে তুলছে নিজের ফেসবুক। আর আপনার সে সময় ফেসবুকে কোনো অ্যাকাউন্টই নেই!
না, তবে আমার একটি পেজ রয়েছে। সেখান থেকে কিন্তু আমি সবাইকে দেখি (হা হা হা)। আসলে ইচ্ছে করে না। ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখবো নাকি নিজের জন্য গান লিখবো।
আইয়ুব বাচ্চু না জেমস কার সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন আপনি?
দু’জনের সাথেই। বিশ্বাস করুন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো শত্রু নেই। তবে একটা দীর্ঘসময় আমি আর জেমস ভাই খুব কাছাকাছি বাসাতে থাকতাম বলে দারুণ কিছু আড্ডার সময়কাল গিয়েছে। সেই সময়গুলো সত্যিই দারুণ। জেমস ভাই আমাকে ভীষণ আদর করেন। বাচ্চু ভাইতো বটেই।
বাচ্চু ভাইয়ের সাথে আপনার অজস্র স্মৃতি। তার কিছুটা শুনতে চাই—
কোনটা রেখে কোনটা বলবো। প্রথম একসাথে কনসার্টের স্মৃতি বলি। আমি গান শেষে স্টেজ থেকে নামছি। বাচ্চু ভাই জড়িয়ে ধরে বললেন, হাসান তোর ভেতরে প্রেম আছে। প্রেম দিস সবাইকে। এরপর একটা স্মৃতির কথা খুব মনে পড়ে। এবি কিচেনে আমি আর বাচ্চু ভাই। সে অনেক কথা। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আমাকে অনেক পরামর্শ দিতেন। মানুষটি কোনোদিন কোনো মিউজিশিয়ানের খারাপ চাননি। সবার উপকার করে গেছেন। বাচ্চু ভাই তার সুরে আমার একটি সলো অ্যালবাম করতে চেয়েছিলেন। পরে কোনো এক ব্যস্ততায় তা আর হয়ে উঠলো না।
কিন্তু গুটিকতক মিউজিশিয়ান বাচ্চু ভাইয়ের বিরুদ্ধেও কিছু কথা বলে গেছে—
এরা মানুষ নামের অমানুষ। আমি মনে করি বাচ্চু ভাইয়ের মৃত্যু সবার ভেতরেই একটা জানান দিয়ে গেছে। সবাই হুট করে টের পেল যে, আমাকেও একদিন যেতে হবে।
এই বোধের জন্য সকলেই আমরা যেন খুব আপন হয়ে গেলাম।
