স্পোর্টস রিপোর্টার
অপেক্ষার অবসান হয়েছে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দায়ে পাওয়া এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে গতকাল। এখন আর জাতীয় দলে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে কোনো বাঁধা নেই তাদের।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান কেভিন রবার্টস মনে করেন, এই দুই তারকার ফেরায় দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দু’টি ওয়ানডে সিরিজ জয়ে অস্ট্রেলিয়ানরা এখন দারুণ উজ্জীবিত। কেভিন রবার্ট মনে করেন, এই দু’জন ফিরলে দলটির ওপর ইতিবাচক প্রভাবই পড়বে।
তিনি স্মিথ-ওয়ার্নারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা স্মিথ-ওয়ার্নার কিংবা ক্যামেরনকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ দলের সদস্যরাও ওদের প্রতি ইতিবাচক। দলের মধ্যে এখন একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। আশা করি, ওরা ফিরলেও এই অবস্থাটা অপরিবর্তিতই থাকবে।’
যদিও তিনি বারবারই বলেন যে বোর্ড কখনোই দেশের সম্মানের প্রশ্নে এক বিন্দুও ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানে কাজ করি, জরুরী নয় যে এখানে সবাই খুব ভাল বন্ধু হবে। কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকাটা জরুরী। স্মিথ, ওয়ার্নার কিংবা ব্যাঙ্কক্রফট নিজেদের ভুলটা বুঝতে পেরেছে, সেই ভুলের মাশুলও তারা গুনেছে। ফলে এখন ওদের আমাদের স্বাগত জানাতেই হচ্ছে। তবে একই সাথে এটাও প্রমাণিত হয় যে, আমরা দেশের সম্মানের প্রশ্নে কাউকেই এক বিন্দুও ছাড় দেই না।’
জানিয়ে রাখা ভাল গত বছর মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে বল টেম্পারিংয়ে জড়ান ক্যামেরন ব্যাঙ্কক্রফট। টেলিভিশন ক্যামেরায় সেই দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়ে। যদিও, মূল পরিকল্পনায় ছিলেন তখনকার অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। এই ঘটনায় ক্রিকেট বিশ্ব নড়েচড়ে বসে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও (সিএ) ক্ষেপে যায়। এক বছরের জন্য সংস্থাটি নিষিদ্ধ করে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে। ব্যাঙ্কক্রফট নিষিদ্ধ হন ছয় মাসের জন্য। সবার শাস্তিই একটু বেশি হয়েছে বলে মনে করেছিলেন অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই। শাস্তির মেয়াদ কমে আসারও আভাস পাওয়া গিয়েছিল। যদিও, মন গলেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। শাস্তির পুরোটাই ভোগ করতে হয়েছে এই ক্রিকেটারদের। তবে, এই সবই এখন অতিত।
ব্যাঙ্কক্রফট আগেই ফিরেছেন। স্মিথ-ওয়ার্নার ফিরলেন এবার। সব ঠিকঠাক থাকলে হয়তো বিশ্বকাপটাও খেলে ফেলবেন সময়ের অন্যতম সেরা এই দুই ব্যাটসম্যান।
