স্পোর্টস রিপোর্টার
শেষ বলে ৭ রান দরকার ছিল জয়ের জন্য।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ব্যাট করছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। উইকেটে ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। আর শেষ বলটা সামলাচ্ছিলেন শিবম দুবে। লাসিথ মালিঙ্গার প্রায় ব্লক হোলে করা বলটা থেকে রান নিতে পারলেন না দুবে। ফলে ৬ রানে হারলো ব্যাঙ্গালুরু।
এটা ছিল নাটকের শুরু মাত্র। শেষ বল হয়ে যাওয়ার একটু পরই মাঠের বড় পর্দায় দেখা গেলো, লাসিথ মালিঙ্গা ওই বলটা করতে গিয়ে বড় ওভার স্টেপিং করেছিলেন; মানে ওটা ছিল নো-বল। আর সেই নো-বলটা পেলে খেলার চরিত্র বদলে যেতো। কারণ পরের ফ্রি হিটে ব্যাঙ্গালুরুর তখন ৬ রান দরকার হতো। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে ভয়ানক বিতর্ক।
ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, এটা পাড়ার খেলার মতো আম্পায়ারিং। এমনকি জয়ী দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মাও বলেছেন, এটা বাজে আম্পায়ারিংয়ের নিদর্শন। ধারাভাষ্যকার কেভিন পিটারসেন বলেছেন, এই ধরনের ভুল এড়াতে প্রয়োজনে আইন বদলানো দরকার।
বৃহস্পতিবার রাতের এই ম্যাচে আগে ব্যাট করা ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করেছিল মুম্বাই। জবাবে ডি ভিলিয়ার্সের ৪১ বলে ৭০ রানের পরও ব্যাঙ্গালুরু থেমে যায় ৫ উইকেটে ১৮১ রানে।
তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে ম্যাচশেষে বড় হয়ে উঠেছে এই নো-বল কাণ্ড। যে নো-বল একেবারেই খেয়াল করেননি তখন দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার এস রবি। এই খেয়াল না করায় দারুণ চটেছেন ভারত জাতীয় দলের ও ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক কোহলি।
ম্যাচশেষে কোহলি বলেছেন, ‘আমরা আইপিএল মানের একটা টুর্নামেন্টে খেলছি; এটা ক্লাব ক্রিকেট নয়। শেষ বলে ওই কলটা ছিল স্রেফ হাস্যকর। আম্পায়ারদের অবশ্যই তাদের চোখ খোলা রাখতে হবে। এটা ইঞ্চি ব্যবধানে একটা নো-বল ছিল। ওই বলটা নো কল করা হলে এটা একেবারেই ভিন্ন একটা খেলায় পরিণত হতো। এটা একেবারেই চুলচেরা ব্যবধানে হেরে গেলাম আমরা। আমি জানি না, এরপর কী হবে। তবে তাদের (আম্পায়ারদের) আরও তীক্ষ ও সতর্ক হতে হবে মাঠে।’
ঠিক এই বিষয় নিয়ে না, প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রোহিত শর্মার এই আম্পায়ারদের ওপর অভিযোগ ছিল অন্য বিষয় নিয়ে। তিনি বলেছেন, এর আগে বুমরাহর একটা সঠিক বলকে ওয়াইড ঘোষণা করেছেন এই আম্পায়াররা, ‘এর আগে একটা ওভারে বুমরাহ একটা বল করেছিল, যেটা ওয়াইড ছিল না। কিন্তু ওয়াইড কল করা হয়েছিল। তাদের (আম্পায়ারদের) দেখতে হবে, আসলে কী হচ্ছে। খেলোয়াড়দের তো এ ব্যাপারে কিছু করার নেই। এগুলো দেখা হতাশাজনক। তবে আমি আশা করি, ভুল সংশোধনের একটা উপায় বের হবে।’
রোহিত মনে করেন, আইসিসি বা বিসিসিআইকে এটা নিয়ে ভাবা উচিত। এই ধরনের ভুল কিভাবে শুধরানো যায়, সেটা দেখা উচিত, ‘আমি আসলেই জানি না, সমাধান কী। তবে আইসিসি বা বিসিসিআইকে এ নিয়ে কিছু করা উচিত। এটা বলছি, কারণ, এটা খেলার জন্য ভালো নয়। খেলার জন্য যা ভালো নয়, তার পক্ষে আমি দাঁড়াই না।’
এই ধরনের ভুল শোধরানোর জন্য প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করার সুপারিশ করেছেন কেভিন পিটারসেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই নো-বল হওয়া উচিত ছিল। অবশ্যই ফ্রি হিট হওয়া উচিত ছিল। আমরা ড্রোন ওড়াতে পারি, আমাদের স্পাইডার ক্যাম আছে। কতো প্রযুক্তি আছে। আজকাল গাড়িও নিজে নিজে চলতে পারে। তাহলে এই প্রযুক্তি কেনো থাকবে না?’
