ফিলিপাইনে দুয়ের্তের সামরিক শাসনের হুমকি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:১৪
ফিলিপাইনে মাদক সমস্যার অবনতি হলে সামরিক আইন জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ের্তে। তিনি বলেন, এটি করা হবে ফিলিপিনো জনগণ ও তরুণদের সুরক্ষার জন্য।
 
ইতিমধ্যে দুয়ের্তের মাদকবিরোধী অভিযানে বিগত ছয় মাসে কমপক্ষে ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। শনিবার দেশকে মাদক ব্যবসায়ীদের চারণক্ষেত্র হওয়া থেকে বিরত রাখতে তিনি এই অভিযান পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে দুয়ের্তে বলেন, যদি মাদক পরিস্থিতির আরো অবনতি হয় এবং অভিযান আরো সহিংস হয়ে ওঠে। আমি চাইলে তখন সামরিক আইন জারি করতে পারি। কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না। আমার দেশ সবকিছুর উপরে, সীমাবদ্ধতাগুলোকেও ছাড়িয়ে। সামরিক আইন জারি করা হলে ফৌজদারি আইন প্রয়োগে সেনাবাহিনীর ব্যবহার করতে পারবেন দুয়ের্তে। এমনকি কোনো ওয়ারেন্ট ও অভিযোগ ছাড়াই যে কাউকে আটক করতে পারবেন। 
 
ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী কোনো বিদেশি শক্তির আক্রমণ কিংবা বিদ্রোহ দমনে প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের জন্য সামরিক শাসন জারি করতে পারবে। তবে পার্লামেন্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি বাতিল করে দিতে পারবে এবং সুপ্রিম কোর্ট এর আইনগত বৈধতা নিরূপণ করবে।
 
তবে দুয়ের্তে বলেন ৬০ দিনের সীমা তার বেলায় খাটবে না। তিনি বলেন, আমার যদি সামরিক আইন জারি করতে হয়, তাহলে আমি সেটা করব। সেটা কোনো বহি শত্রুর আক্রমণ, বিদ্রোহ কিংবা বিপদের জন্য নয়। আমি সামরিক আইন জারি করব আমার জাতি ও প্রজন্মের সুরক্ষায়।
 
অবশ্য গত মাসেই দুয়ের্তে সামরিক আইনকে ‘অকার্যকর’ বলে অভিহিত করে বলেছিলেন, অতীতে এটি কোনো কাজে আসেনি। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে ফিলিপাইনে সামরিক শাসন জারি করেছিল কুখ্যাত একনায়কতান্ত্রিক শাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস। কমিউনিস্ট বিদ্রোহী ও অপরাধ দমনের অজুহাতে জারি করা সেই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় ১৯৮১ সালে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ