টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদেয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।
মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদকে হত্যা এবং ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগে এমপি রানাকে বহিষ্কার করা হয়। তার অপর তিনভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলা বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ফারুক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এমপি রানা ও তার তিনভাইকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা চারভাই দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে হত্যা-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আওয়ামী লীগে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলকে খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্ত করতেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের জেলা শাখার ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের অসুস্থ ও বিদেশে অবস্থানকারী কয়েকজন ছাড়া ৬৪জন সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সর্বসম্মতভাবে তাদের চারভাইকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে এমপি রানা ও তার তিনভাইকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরের পর ছাত্রলীগ টাঙ্গাইল শহরে একটি বিজয় মিছিল করে। মিছিলে ফারুক হত্যা মামলায় প্রভাবশালী খান পরিবারের এই চারভাইয়ের ফাঁসির দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেয়া হয়।
এমপি রানা ফারুক হত্যা মামলায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর থেকে জেলহাজতে আছেন। তার অপর তিনভাই এখনো পলাতক। এমপি রানা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে তার কর্মীদের ছাত্রলীগ নেতা ও ঘাটাইল জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যার নির্দেশ দেন বলে রুবেল হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুল জব্বার বাবু আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তিনিসহ এমপি রানার ঘনিষ্ট কয়েকজন কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে এমপি রানা তাদের এই নির্দেশ দেন মর্মে বাবু তার জবানবন্দীতে জানান। গত ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সামিদুল ইসলাম এই জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
ইত্তেফাক/এএন
