নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর বুকে জেগে ওঠা ডুবোচর ও ঘন কুয়াশার কারণে কালনা ঘাটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। দূরপাল্লার কোনো পণ্যবহনকারী যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। কাঁচামাল পঁচেগলে নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদের সাথে ফেরির ইজারাদারও হয়ে পড়েছেন অসহায়।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইলসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার যাত্রী ও পণ্যবহনের সহজ পথ হলো কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর, মংলা, সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য এলাকার সহজ যোগাযোগের রুট কালনা ফেরীঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রিবাহী বাস, ট্রাক,কাভার্ড ভ্যান,পিকআপ, টেম্পুসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। শীত মৌসুমে মধুমতি নদীতে পানি কমে যাওয়ায় যাতায়াতকারী যানবাহন ও যাত্রীদের জোয়ার-ভাটার অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘন্টা পারাপারের জন্য নদীপাড়ে বসে থাকতে হচ্ছে। কালনাঘাট পয়েন্টে মধুমতি নদীতে অসংখ্য ডুবোচর থাকায় রাতের বেলা ও ভোরে ফেরি চরে আটকে যাচ্ছে। দিনের বেলাতেও ফেরি চরে ঠেকে যাচ্ছে। তাই নদীর মাঝে যাত্রি ও যানবাহন অসহায়ভাবে আটকে থাকছে। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডুবোচর সরাতে ড্রেজিং এর কাজ শুরু করেনি।
ফেরির চালক মো. মফিজুর রহমান জানান, এমনিতে ঘনকুয়াশায় নদী পথ ভাল দেখা যায় না। তারপরেও চলার পথে আবার অসংখ্য ডুবোচর। গভীর রাতে, ভোরে সহ বিভিন্ন সময়ে পারাপারের সময় ডুবোচরে ফেরি আটকে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা নদীর মাঝে বসে থাকি। ঘাটের পার্শ্বের মুদিদোকানদার টান্ডু শেখ বলেন, ফেরি যখন ডুবোচরে আটকে যায় তখন সব যাত্রি নিচে নেমে চলাচল করে। রাতভরই দোকানদারি করতে হয়। ফেরির ইজারাদার মনজুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ঘাট এলাকার হোসেন সিকদার বলেন, নারী পুরুষের পাশাপাশি ঘাটে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। লোহাগড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হাসান বলেন, দ্রুত ডুবোচর কেটে না ফেললে ফেরি চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় বলেন, বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে ব্যবস্থা নেবো।
ইত্তেফাক/এএম।
