তিস্তার ধুধু বালুচরে বইছে সবুজের স্রোত। খরস্রোতা তিস্তার বুকে এখন নানাবিধ ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত পাগলা নদীটি বর্তমানে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে নদী খনন এবং ড্রেজিং না করায় দিনে পর দিন পলি জমি ভরাট হয়ে নদীটি সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদী ভাঙ্গণে বসতভিটা ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলো ফিরে এসে তিস্তার বালুচরে শুরু করেছে ফসলের চাষাবাদ। বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা গেছে সবুজের বৈচিত্র রূপ। বিশেষ করে আলু, মরিচ, বেগুন, গম, ভূট্টা তিল, তিসি, কাউন, তামাক, পিয়াজ, রশুন, বাধা কপি, ফুল কপি, লাউ, টমেটো, সিম, বাদাম, গাজর, মূলা, ইরিবোর, নানাবিধ শাকসবজি চাষাবাদে ভরে উঠেছে ধুধু বালুচর। তারাপুর চরের কৃষক সাহাদুল মিয়া জানান, আজ থেকে ৫ বছর আগে পাগলা তিস্তা নদীর কড়াল গ্রাসে জমি-জমা হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন জেলায় রিক্সা চালিয়ে জীবনযাপন করেছিলাম। তিস্তার বালুচর জেগে ওঠায় আবার ফিরে এসে বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছি। চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে আলু, এক বিঘা জমিতে পিয়াজ ও এক বিঘা জমিতে শাক সবজি চাষাবাদ করেছি। ইতিমধ্যে আলু বিক্রি শুরু করেছি। আমি আশা করছি চার বিঘা জমির ফসলের আয় দিয়ে আমার এক বছরের সংসারের খরচ চলবে।
তিনি আরো বলেন, ওই সব ফসল উঠানোর পর ইরিবোর চাষাবাদ করবো। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান তিস্তার চরাঞ্চলে এখন সকল প্রকার ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। পলি জমে উরর্বর হয়ে ওঠা বালুচরে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়ায় ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএম।
