স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
ধলাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ২০ একর জমি। নদী ভাঙনের কবলে ২০ পরিবার ও হুমকির মুখে ধলাই সেতু। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী সুরক্ষা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে অবশেষে নদীপাড়ের মানুষ ২৪ মার্চ মানববন্ধন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধলাই নদীর ধর্মপুর-রামচন্দ্রপুর এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামের কয়েকটি বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া ব্রিজের পাশ থেকে বালু উত্তোলন আইনে নিষেধ থাকলেও মৃত্তিঙ্গা ধলাই সেতুর পাশ থেকেই ড্রেজার মেশিনযোগে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে মৃত্তিঙ্গা-ভৈরবগঞ্জ সড়কে যাতায়াতে রাস্তায় একমাত্র সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা লুত্ফুর রহমান জাকারিয়া বলেন, ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদী তীরে বসবাসরত নদী পাড়ের লোকজন আতঙ্কে দিনযাপন করছি। এখানে একটি ইজারাদারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন যাবত্ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় আমাদের বিশ একর ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নদীর ওই স্থান থেকে ৩০-৪০ ফুট গভীর করে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বর্তমানে নদী আমাদের বসতভিটার কাছে চলে এসেছে। এখনও ঘরের পাশেই মৃত্তিঙ্গা-ভৈরবগঞ্জ সড়কের ধলাই সেতুর প্রায় একশ ফুট অদূরে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন চলছে। বালু উত্তোলনের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় গ্রামের দুরুদ মিয়া, সামছুল ইসলাম, ফয়সল আহমদ, আলমাছ মিয়া, আইন উদ্দীন, আনোয়ার মিয়া, আব্দুর রহমানসহ প্রায় ২০টি পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, আমার বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গ্রামের তোফায়েল আহমদ, আব্দুর রশীদ বলেন, নদী ভাঙনে আমাদের কৃষিজমি বিলীন হয়েছে। এ ব্যাপারে রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বলেন, নদীর বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চৈত্রঘাট মৌজা ইজারা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। এখানে রাস্তা, বাঁধ ও সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা বলেন, এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। তাই এলাকাবাসী নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষায় বাধ্য হয়েই মানববন্ধনের মাধ্যমে নদী সুরক্ষা ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
অভিযোগ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে আসলেও পরে তা আবার চালু করে দেয়। এখানকার লিজ বাতিলের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। তাছাড়া এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
