সমঝোতার কথা রটিয়ে হত্যা করা হয় ৪ নেতাকে :আমু

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:৫৬

শহীদ এম মনসুর আলী ছিলেন এক জন খাঁটি বাঙালি। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। এই মহাননেতার জন্ম শত বার্ষিকী পালন এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জাতি বঙ্গবন্ধুর মতো আরো একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারিয়েছে। রাজনীতির এ শূন্যতা পূরণ হবার নয়। শহীদ এম মনসুর আলীর জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের গান্ধাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেছেন।

 
শহীদ এম মনসুর আলীর জন্ম শত বার্ষিকীতে তার নির্বাচনী এলাকায় শহীদ মনসুর আলী কল্যাণ ট্রাস্ট, মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ, মনসুর আলী পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এলাকার বিভিন্ন সড়ক সমূহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, শহীদ এম মনসুর আলী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু এবং মোহাম্মদ নাসিমের ছবি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল রংবেরঙের তোরণ।  কাজীপুরের ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উত্সবের আমেজে দলীয় নেতাকর্মীসহ মনসুর ভক্ত সাধারণ মানুষ দলে দলে এসে জনসমাবেশে যোগ দেন। বিকাল তিনটার মধ্যেই গান্ধাইল হাই স্কুল মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। জনসমাবেশ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সিরাজগঞ্জ সদরের কুড়িপাড়ায় শহীদ এম মনসুর আলীর জন্ম হলেও কাজীপুর তার নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় জন্ম শত বার্ষিকীতে গোটা কাজীপুরের মানুষ বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তা পালন করেছেন। গোটা কাজীপুরেই ছিল  উত্সবের আমেজ। স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার শহীদ পিতার প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের ভালবাসায় আবেগ আপ্লুত হয়ে উঠেন এবং গর্ব করে বলেছেন- আমার শহীদ পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং দেশের সঙ্গে বেঈমানী করেন নি। তিনি তা জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন।
 
শহীদ মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এ বিশাল জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংসদের আহ্বায়ক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য। জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, গাজী আমজাদ হোসেন মিলন এমপি, বেগম লায়লা নাসিম, সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়, সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি, অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন প্রমুখ। এর আগে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ কুড়িপাড়ায় শহীদ এম মনসুর আলীর ভিটে বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।
 
প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু শহীদ এম মনসুর আলীর স্মৃাতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জেলখানায় জাতীয় চার নেতা খুনের ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের আগে জেল খানায় রটানো হয় চার নেতার সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হতে পারে। এর পরের রাতেই ঘটানো হয় সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড।
 
সভায় বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আবেগ-আপ্লুত হয়ে বলেন, পরিস্থিতির কারণে তিনি তার পিতার লাশও দেখতে পারেননি। তবে তার আদর্শ ধারণ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৭৫ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে কি নির্মমভাবে শহীদ এম মনসুর আলীসহ জাতীয় চার নেতা হত্যা করা হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে বলেন, শহীদ এম মনসুর আলীর জন্ম শত বার্ষিকী পালন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। মনসুর আলীর সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সখ্য, অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস ছিল নজিরবিহীন।’

ইত্তেফাক/এএন