গত কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা হঠাত্ করে নীচে নেমে যাওয়ায় তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং বস্তিতে পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডাজনিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
কুতুপালং বস্তি ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর জানান, গত ১১ নভেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং বস্তির আশপাশের শতাধিক একরের মতো বনভূমিতে ঝুপড়ি বেঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। এদের থাকা খাওয়ার কিছু নেই বললেই চলে। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে তিনটি সেনা ছাউনিতে সশস্ত্র বিদ্রোহী হামলায় নয়জন সেনা সদস্য ও ছয়জন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিদ্রোহী তল্লাশির নামে বর্মী সেনারা রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন, ধর্ষণ, আগুন দিয়ে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় এসব রোহিঙ্গারা সর্বস্ব হারিয়ে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।
৬৫ বছর বয়সী আমিনা খাতুন জানান, তার ছেলে আহমদ নবীকে মগ সেনারা কোথায় নিয়ে গেছে জানেন না। চোখের সামনে ছেলের বউকে ধর্ষণ করেছে। দুই নাতি সায়েরা (৬), আব্বাস (৩) ও ছেলের বউকে নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। স্থানীয় দান খয়রাতের টাকায় কোনো রকম ঝুপড়ি বাঁধতে পারলেও কাপড় না থাকায় প্রচণ্ড শীতে সারারাত ঘুমাতে পারছি না। ঠাণ্ডায় নাতি দুটির গায়ে জ্বর এসেছে। এভাবে প্রতিটি ঝুপড়িতে রোহিঙ্গা নারীদের আহাজারি ও শীত কষ্টের করুণ আর্তি চলছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ জানান, এখানে ব্যক্তি বা কোনো সংস্থা নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের কোনো সুযোগ নেই। যে কারণে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা শীতবস্ত্রসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসকের ত্রাণ শাখায় যে অনুদান জমা পড়েছে সেগুলো সরকারিভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
